Category: আর্কাইভ

  • একটি নক্ষত্রের অস্ত, একটি সময়ের সমাপ্তি

    একটি নক্ষত্রের অস্ত, একটি সময়ের সমাপ্তি

    শাহারিয়া ইমন রুবেলঃ

    বাংলাদেশ আজ নীরব। এই নীরবতা কোনো সাধারণ শোকের নয়, এটি একটি সময়ের থেমে যাওয়ার নীরবতা। দেশের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে যাঁর নাম উচ্চারিত হয়েছে দৃঢ়তা, আপসহীনতা ও সংগ্রামের প্রতিশব্দ হিসেবে, সেই বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে একটি অধ্যায় চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।

    বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতীক। তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের প্রতিনিধি, যাঁদের রাজনীতি গড়ে উঠেছিল আন্দোলনের ভেতর দিয়ে, ক্ষমতার চেয়েও আদর্শকে বড় করে দেখার চর্চায়। তাঁর জীবনের প্রতিটি বাঁকে ছিল প্রতিকূলতা, তবু পিছু হটার গল্প ছিল না।

    স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানোর পর যে নারী রাজনীতির কঠিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতৃত্বের ভার নিয়েছিলেন, তিনি জানতেন, এই পথ সহজ নয়। কারাবরণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, অসুস্থতা, সবকিছুকে সঙ্গী করেই তাঁকে চলতে হয়েছে। তবু তিনি থেমে যাননি। থামেননি তাঁর বিশ্বাস, থামেনি তাঁর অবস্থান।

    গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে লেখা থাকবে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিরোধীদলীয় রাজনীতির দৃঢ়তা, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, এই সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল তাঁর নেতৃত্ব। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু একটি পদ অলংকৃত করেননি; তিনি নেতৃত্বের ভাষা বদলে দিয়েছিলেন।

    তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে বিতর্ক থাকবে, এটাই গণতান্ত্রিক বাস্তবতা। কিন্তু বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে যে সত্যটি দাঁড়িয়ে থাকে, তা হলো তিনি ছিলেন সংগ্রামী, তিনি ছিলেন অবিচল, তিনি ছিলেন সময়ের ভার বহনকারী এক নেতৃত্ব। ইতিহাস তাঁর কাজের বিচার করবে, তবে তাঁর সাহস ও ধৈর্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

    দীর্ঘ অসুস্থতা তাঁকে জনসম্মুখ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, কিন্তু রাজনীতি থেকে নয়। নীরব থেকেও তিনি ছিলেন উপস্থিত। একটি নাম, একটি অস্তিত্ব, যা উচ্চারিত হলেই রাজনীতির মেরুকরণ বদলে যেত। এটি কেবল ব্যক্তির প্রভাব নয়, এটি সময়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত আস্থার শক্তি।

    আজ তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা শুধু একটি দলের নয়, এটি জাতীয় রাজনীতির শূন্যতা। এমন এক সময়ে, যখন রাজনীতি ক্রমেই সহনশীলতা হারাচ্ছে, তখন বেগম খালেদা জিয়ার মতো অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের অভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

    মৃত্যু সবাইকে সমান করে দেয়, কিন্তু ইতিহাস নয়। ইতিহাস মনে রাখে তাদেরই, যারা সময়ের চাপ সয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছেন। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই একজন।

    আজ বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে একটি নক্ষত্র অস্ত গেল। আলো নিভে গেল আকাশে, কিন্তু তার প্রতিফলন রয়ে গেল ইতিহাসে, স্মৃতিতে এবং মানুষের বিবেকে।

    ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

  • ৬ মাসের মুরসালিনকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি

    ৬ মাসের মুরসালিনকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি

    আশরাফুল আলমঃ

    ছয় মাস আগে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ইবি থানাধীন শান্তিডাঙ্গা গ্রামে এক দারিদ্র্য পরিবারে জন্ম হয় মুরসালিন হোসেনের। তার জন্মে আনন্দে ভরে উঠে পরিবারটি। মুরসালিনের জন্মের আগে পরিবারটি তাদের আরেক সন্তানকে চিরদিনের জন্য হারিয়েছিল। তবে বেশি দিন পুত্র সন্তানের জন্মের এ আনন্দ ধরে রাখতে পারেনি ওই পরিবার। কারণ যে বয়সে সকলের আদরে বড় হয়ে উঠার কথা ছিল সেই বয়সে মারাত্মক হার্ড ছিদ্র ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন মুরসালিন। যার চিকিৎসার ব্যয় সবমিলিয়ে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মতন। যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরাই মুরসালিনের পিতা মুজিবর হোসেনের। সেখানে তার চিকিৎসার জন্য এতো টাকা খরজ করা অসম্ভব অবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে।

    মুরসালিনের পিতা পেশায় একজন রং শ্রমিক। প্রতিনিয়ত কাজ থাকে না তার। কাজের মজুরি দিন ৪০০-৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। নিজের থাকার জন্য নেই জায়গা জমিও। পরের জমিতে করা ঘরে বসবাস ৫ সদস্যের পরিবারটির। নিজের শেষ সম্পদ, ধার-দেনা ও কিস্তি তুলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা করা হয় মুরাসালিনকে। তবে পরিবারটির কাছে মুরসালিনের চিকিৎসা করানোর মত আর কিছু নাই। তাই মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা মুরসালিনকে চিকিৎসা দিতে পারছেনা পরিবারটি। সমাজের বিত্তবান শ্রেণির মানুষদের নিকট মুরসালিনের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আকুতি তার বাবা-মায়ের।

    জানা যায়, মুরসালিনকে চিকিৎসা প্রদানের জন্য সর্বপ্রথম কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রাজশাহী থেকে পাঠানো হয় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হাসপাতালে। মুরসালিনের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা- নিরীক্ষা অপারেশনসহ চিকিৎসার যাবতীয় খরজ বহন না করতে পারায় তাকে নিয়ে ফিরে আসে পরিবারটি। অথচ চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুটি।

    মুরসালিনের মাতা শ্যামন্তিয়ারা বলেন, আমরা আমাদের যা ছিল তা দিয়ে মুরসালিনকে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করছি। রাজশাহী থেকে এসে কিস্তি তুলে ধারদেনা করে ঢাকায় গেছি।আমাদের সব টাকা খরজ হয়ে গেছে। মুরসালিনকে বাঁচাতে সবাই যদি এগিয়ে আসতো তাহলে ওর চিকিৎসা করাতে পারতাম।

    মুরসালিনের পিতা মজিবার হোসেন বলেন, আমি আমার এক ছেলেকে হারিয়েছে। তারপর এ ছেলে হয়েছে। সন্তান হারানোর বেদনা যে হারিয়েছে সেই বুঝবে। আর সন্তান মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে। পিতা হিসাবে আমার চিকিৎসা করানের মত সামর্থ্য নেই। আমি কি করব বুঝতে পারছিনা। আমার এক শতক জমিও নেই যে বিক্রি করব। সমাজে যারা বিত্তবান আছে তারা যদি আমার পাশে দাঁড়াতো আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য তাহলে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতাম।

    মুরসালিকে সাহায্যের জন্যঃ বিকাশ: ০১৭১৫০৭২৩৩৪ (ব্যক্তিগত), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: ৩০১০৬০১০১৪৯৮২ (সোনালী ব্যাংক)।

  • কুষ্টিয়ায় চ্যানেল ২৪ এর প্রতিনিধিসহ ৩ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

    কুষ্টিয়ায় চ্যানেল ২৪ এর প্রতিনিধিসহ ৩ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

    দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:

    বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল ২৪ এর কুষ্টিয়ার ষ্টাফ রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস, ক্যামেরাপার্সন এসআই সুমন ও বিদ্যুৎ হোসেন নামে ৩ সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাংচুর করা হয়।

    বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের সিরাজনগরে পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীরা হামলা তাদের উপর হামলা চালায়। সাংবাদিকেদের দেশিয় অস্ত্রসহ লাঠি দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়। এ সময় প্রায় আড়াই ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ৩ সাংবাদিককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দৌলতপুর হাসপাতালে নেয়া হয়।

    বাম থেকে আহত সুমন, শরিফ বিশ্বাস ও বিদ্যুৎ খন্দকার

    আহত সাংবাদিক ও স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের আবুল কাসেমের দ্বিতীয় পুত্র কামাল হোসেন নিজের ব্যাক্তিগত তথ্য গোপন করে চাচা আহসানুণ হাবীব মোল্লাকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কৌটায় এডমিন ক্যাডারে চাকরী পান। বর্তমানে তিনি ইউএনও হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। চাচাকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কৌটায় চাকরি পাওয়ার এমন তথ্য পেয়ে প্রতিবেদনের জন্য সরেজমিন খোজখবর নিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে চ্যানেল ২৪ এর কুষ্টিয়ার ষ্টাফ রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস তার ক্যামেরাপার্সন সুমন ও স্থানীয় সাংবাদিক বিদ্যুৎ হোসেনকে সাথে নিয়ে কামাল হোসেনের নিজ গ্রাম সিরাজনগরে যায়। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি জানতে পেরে আহসান হাবীব মোল্লার ছেলে বাচ্চুর নেতৃত্বে ১২ জন সন্ত্রাসী তাদের উপর চড়াও হয়। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই লাঠিসোঠা দিয়ে ওই ৩ সাংবাদিকেকে বেধড়ক মারপিটসহ তাদের কাছে থাকা ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় প্রায় আড়াই ঘন্টা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা মুক্ত হয়। পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাদের দৌলতপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। কর্তব্যরত অবস্থায় সাংবাদিক শরীফ বিশ্বাসসহ ৩ সাংবাদিকের উপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংবাদিক সংগঠন। অবিলম্বে এ হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সাংবাদিকরা।

    আহত সাংবাদিক শরীফ বিশ্বাস বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাঠের চলা ও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। ক্যামেরা ভাংচুর করে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। স্থান্যীয় হাসপাতালে চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

    দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, মৌখিকভাবে শুনেছি। বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • দৌলতপুরে সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস!

    দৌলতপুরে সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস!


    নিজস্ব প্রতিনিধি :

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছে একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের হাতে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি হয়ে আছে এখানকার দলিল লেখক ও এখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
    অনুসন্ধানে উঠে এসেছে দৌলতপুরের সদ্য বদলি হওয়া সাব-রেজিস্টার আনোয়ার হোসেন, সাব রেজিস্ট্রি অফিসের বড়বাবু মুন্নি আরা খাতুন, এবং দলিল লেখক সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন ও স্ট্যাম্প ভান্ডার নুরুজ্জামান এখানকার দলিল লেখক ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে দলিল রেজিস্ট্রিতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছেন। অভিযোগ আছে এই সিন্ডিকেটের পিছনে থেকে শক্তি যোগাচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের দু একজন প্রভাবশালী নেতা।
    সাধারণ দলিল লেখক ও সেবা নিতে আসা মানুষের অভিযোগ এখানে দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসলে দলিল প্রতি সরকারি ফি বাদে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয় তাদের।
    এসব চাঁদাবাজি বন্ধে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা অনেকবার আন্দোলন করলেও কোন সুফল আনতে পারেনি। তাছাড়া ওই সিন্ডিকেটের মুল হোতা নুরুজ্জামান নুরুর আছে নিজস্ব পোশা ক্যাডার বাহিনী। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বললেই তার উপর শুরু করে অত‍্যাচার।
    এদিকে গত সোমবার বদলির আদেশ হয় দৌলতপুরের সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত সাব-রেজিস্টার আনোয়ার হোসেনের। আর সেখানেই বাধে বিপত্তি। সোমবার অফিসে এসে সাব-রেজিস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন আমার বদলি হয়ে গেছে আর কোন দলিল রেজিস্ট্রি আমি করবো না। এ সময় সাধারণ দলিল লেখক ও সেবা নিতে আসা মানুষ ফিরে যায়। অথচ ঐদিন দুপুর পর থেকে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোপনে শতাধিক দলিল রেজিস্ট্রি করেন ওই কর্মকর্তা। পরদিন মঙ্গলবারও তিনি একই পন্থায় কিছু ব্যক্তির দলিল রেজিস্ট্রির প্রস্তুতি নেয়। এ সময় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরের এক আত্মীয় দলিল করতে আসেন। অথচ সাব-রেজিস্টার তার দলিল করবে না বলে জানান। এ সময় যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের অফিসে গিয়ে দেখে টাকার বিনিময়ে অন্যান্য লোকের দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে। তিনি তখন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালে ওই সিন্ডিকেটের ক্যাডার বাহিনীরা শুরু করে হট্টগোল। পরে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অফিসে চাঁদাবাজি হয়ে আসছে। আমি নিজেও একাধিক বার প্রতিবাদ জানিয়েছি। আজ ঘটনার দিন আমার এক আত্মীয় একটা দলিল রেজিস্ট্রির জন্য আসে কিন্তু তার দলিলটা রেজিস্ট্রি করেনি সাব-রেজিস্টার আনোয়ার হোসেন। পরে আমি গিয়ে দেখি গোপনে অনেকগুলো দলিল রেজিস্ট্রি করছেন তিনি। তখন আমি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালে এই সিন্ডিকেটের ক্যাডার বাহিনীরা হট্টগোলের সৃষ্টি করে এবং আমাকে লক্ষ করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে।
    এ ব্যাপারে ওই সকল সিন্ডিকেটের সদস্য ও দৌলতপুরের সদ্য বদলির আদেশ পাওয়া সাব-রেজিস্টার আনোয়ার হোসেন এর মুঠো ফোনে ফোন দিলে নম্বর বন্ধ থাকার কারনে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
    উল্লেখ্য এই মাসের প্রথম সপ্তাহে আগের দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখক সমিতির কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে সাধারণ দলিল লেখকরা।

  • বাংলাদেশ বুক ক্লাবের আয়োজনে ২৮তম বই দিবস পালিত

    বাংলাদেশ বুক ক্লাবের আয়োজনে ২৮তম বই দিবস পালিত

    রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ বাংলাদেশ বুক ক্লাব ঘোষিত ২৮ তম বই দিবস। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বুক ক্লাবের আয়োজনে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়েছে।

    প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভাষার মাসের সূচনালগ্নে সকাল ৮ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বুক ক্লাব ও উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উদয়ন স্কুল মিলনায়তনে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বুক ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যক্ষ জহুরা বেগম ও বাংলাদেশ বুক ক্লাবের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সেলিমা সাঈদ।

    এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিজ মাতৃভাষায় সাহিত্যচর্চার প্রতি সকলকে আগ্রহী করে তুলবে। শিক্ষার কোন শেষ নেই। আমরা প্রতিটি জায়গায় প্রতিটি ক্ষণে জানার চেষ্টা করছি, শেখার চেষ্টা করছি। সবশেষ তিনি সকলকে বই পাঠের মাধ্যমে মুক্ত জ্ঞানারোহনের আহ্বান জানান।

    বাংলাদেশ বুক ক্লাবের মহাসচিব সালাহউদ্দীন কুটু’র সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ বুক ক্লাবের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মশিউর রহমান, সঙ্গীতশিল্পী জামিউর রহমান লেমন, বাংলাদেশ বুক ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ খান বিজু, নির্বাহী সদস্য নাসিমুল বারী, শাহিনুর আলম, মসলেহ উদ্দিন খান মজলিস, বাংলাদেশ শিশু সংগঠক ঐক্য জোটের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ আহমেদ প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, গত ৪ দশকের ঐতিহ্য নিয়ে বাংলাদেশ বুক ক্লাব বই পাঠক তৈরিতে এক অনন্য ভূমিকা রেখে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশ বুক ক্লাব স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। রচনা প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য “মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা”, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির জন্য “আমাদের ভাষা আন্দোলন”, ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির জন্য “আমার দেশ”। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

  • তিতুমীর সম্মান পেলেন প্রবীণ কবি ও সাংবাদিক আব্দুর রশীদ চৌধুরী

    তিতুমীর সম্মান পেলেন প্রবীণ কবি ও সাংবাদিক আব্দুর রশীদ চৌধুরী

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    তিতুমীরের জন্মদিনে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত কুষ্টিয়ার প্রবীণ কবি ও সাংবাদিক আব্দুর রশীদ চৌধুরী’কে তিতুমীর সম্মান প্রদান করলেন চন্দ্রনাথবসু।

    কলকাতা কফি হাউসে আজ শনিবার (২৭ জানুয়ারি,২০২৪) একঝাঁক কবি সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রবীন কবি ও সাংবাদিক আব্দুর রশীদ চৌধুরী কে তিতুমীর সম্মান প্রদান করেন পশ্চিমবঙ্গ নাগরিক সমাজের সম্পাদক চন্দ্রনাথবসু। উপস্থিত ছিলেন কবি ধ্রুবব্রত দত্ত , কবি ও শিক্ষিকা সুপর্ণা কর্মকার, শিশু কবি স্বপ্ন প্রামানিক, কবি, প্রকাশক মধুমিতা ধূত, বিশিষ্ট শিক্ষক সন্দীপন প্রামানিক প্রমূখ। এসময় তিতুমীরের জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন ধ্রুবব্রত দত্ত। সবশেষে তিতুমীরের জন্মদিন উপলক্ষে সকলকে ব‌ই উপহার দেন।

    এছাড়াও কলকাতা ব‌ই মেলাতে ‘সবুজ মন’ পত্রিকা প্রকাশ করবেন কবি আব্দুর রশীদ চৌধুরী। ঐদিন আব্দুর রশীদ চৌধুরী কে সেরা বাঙ্গালী কবি সম্মান প্রদান করা হবে। চন্দ্রনাথবসু সকলকে ব‌ই মেলায় সবুজ মন সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    প্রবীণ কবি ও সাংবাদিক আবদুর রশীদ চৌধুরী আমাদের কুষ্টিয়াবাসির অহংকার। তিনি বৃহত্তর কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র ‘দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। এই দৈনিক পত্রিকাটি দুই বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংবাদের সেতু বন্ধনের মুখপত্র বলা হয়। এছাড়াও তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় ঐতিহ্য সাপ্তাহিক জাগরনী ও দি বাংলাদেশ রিভিউ পত্রিকারও সম্পাদক। তাঁর লেখা কাব্য গ্রন্থঃ নির্জনে আমি একা; প্রেক্ষিতে মুখর নদী, আয়নায় নিসর্গ রমণ (সম্পাদিত) ও কলকাতা থেকে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তোমার মনকে ছোঁব একদিন’ ইত্যাদি। আমরা কুষ্টিয়াবাসি এই প্রবীণ কবি ও সাংবাদিক কে অভিভাবক হিসেবে পেয়ে যেমন ধন্য তেমনি তাঁকে নিয়ে গর্বও করি।

  • শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে কী বলছে আবহাওয়া অফিস

    শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে কী বলছে আবহাওয়া অফিস

    চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

    এদিকে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়েছে। তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত একই অবস্থা থাকতে পারে। বৃষ্টিপাতের শঙ্কা নেই, তবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছে ২০১৮ সালে। ওই বছরের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। একই দিন সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    এ ছাড়া এদিন নীলফামারীর ডিমলায় ৩ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩.১ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।

    ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি সৈয়দপুরে ৩ ডিগ্রি এবং ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

    এ ছাড়া ২০১৯ সালে তেঁতুলিয়ায় ৪.৯ ডিগ্রি, ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি যশোরে ৪.৫ ডিগ্রি এবং ২০১৭ সালে কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়।

    অনলাইন ডেস্ক

  • সাংবাদিক দোলনের পিতার মৃত্যুতে সাপ্তাহিক পথিকৃৎ পত্রিকার সম্পাদকের শোক

    সাংবাদিক দোলনের পিতার মৃত্যুতে সাপ্তাহিক পথিকৃৎ পত্রিকার সম্পাদকের শোক

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    বৈশাখী টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক রবিউল ইসলাম দোলনের পিতা মোহাম্মদ আবুল হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজিউন)। 

    শনিবার রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে কুষ্টিয়ার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    রবিবার সকাল ১১ টায় শহরের চামড়া পট্টি জামে মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে হাউজিং চাঁদাগাড়া ঈদগাহ গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।

    গত বুধবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    সাংবাদিক দোলনের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাপ্তাহিক পথিকৃৎ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল। শোকবার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

  • ছয় বিভাগে হতে পারে বৃষ্টি, কমবে শীত

    ছয় বিভাগে হতে পারে বৃষ্টি, কমবে শীত

    অনলাইন ডেস্ক:

    দেশের ছয়টি বিভাগে আজ থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বৃষ্টির পরিমাণ স্থানভেদে কমবেশি হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে শীত কমে আসবে। শনিবারের মধ্যে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা ও বরিশালের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের স্থান কমে যাবে; বরিশাল ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে আবহাওয়া অফিস বলছে, এটি মৌসুমের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে দেশের চারটি অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করেছে। বৃষ্টিপাত শুরু হলে শৈত্যপ্রবাহ বন্ধ হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতা শেষ হলে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা আবারও কমতে পারে। বুধবার ছয়টি জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ছিল। জেলা ছয়টি হচ্ছে- চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল, বান্দরবান, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল), পাবনা (ঈশ্বরদী) ও চট্টগ্রাম (সীতাকুণ্ড)। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে ৯.৪ ডিগ্রি।

    সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ২৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • আগামীর সংসদ বাকশাল মডেলের, সংসদীয় গণতান্ত্রিক নয়

    আগামীর সংসদ বাকশাল মডেলের, সংসদীয় গণতান্ত্রিক নয়

    ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ:

    গেল ৭ই জানুয়ারি বিএনপিসহ বেশ কিছু দলের দীর্ঘদিনের দাবি ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন’ উপেক্ষা করে সংবিধান রক্ষার মোড়কে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো তার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের আগামীর সংসদ হবে বিরোধী দলবিহীন বাকশাল মডেলের সংসদ, সংসদীয় গণতন্ত্রের সংসদ নয়।

    সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদ কখনও বিরোধী দলবিহীন হয় না। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে যে বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা ছিল সকল দলকে একদলে রূপান্তরিত করত: সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বদলে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার প্রবর্তন। আর এবারকার বিষয়টি হলো, সংসদীয় ব্যবস্থায় বাকশাল বা একদলীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা, যেখানে বিরোধী দলের কোনো অস্তিত্ব নেই যা মূলত: সংসদীয় গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিরোধী। এটি কিভাবে হতে পারে, যদিও বিষয়টি সবার কাছে বোধগম্য, তারপরেও কিছুটা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অপেক্ষা রাখে। এই মৌলিক বিষয়টি আলোচনার পূর্বে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের গুরুত্ব ও ভূমিকা এবং কারা বিরোধী দল হওয়ার যোগ্য এ বিষয়ের উপর কিছুটা আলোকপাত করব।

    সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তিত কোন রাষ্ট্রের সংসদ বা আইন পরিষদ গঠনে ন্যূনতম দুটি দলের উপস্থিতি অপরিহার্য। মূলত: এ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় বহু দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। নির্বাচনে বিজয়ী মেজোরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে, আর মাইনোরটি দল সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে থাকে। জোটভিত্তিক নির্বাচন হলে বা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরে কোন জোটে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতার অংশীদারও হতে পারে অথবা বিরোধী দলের অবস্থানও গ্রহণ করতে পারে। সংসদীয় ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট বিরোধী দল সংসদের হৃদপিণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ বিরোধী দল ছাড়া সংসদীয় পদ্ধতি কখনই সফলভাবে কাজ করতে পারে না।

    মাধ্যমেই ইতোমধ্যেই সীমিত হয়ে গেছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের পর নতুন দল গঠন করত: বিরোধী দল হওয়ার সুযোগও নেই। বাস্তবতা হলো, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারা কখনই সংসদে নিজস্ব অবস্থানে থেকে বিরোধী দলের মত ভূমিকা পালনের অভিনয় করার ক্ষমতাও তাদের নেই। কেননা, তারা তাদের দল তথা আওয়ামী লীগের নেত্রীর বদন্যতায় নির্বাচনে অংশগ্রহণে সক্ষম হয়েছে।

    এখন ধরা যাক জাতীয় পার্টির কথা। তাদের নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা সর্বমোট ১১, এ সংখ্যা দিয়ে বিরোধী দল গঠন বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রচলিত নিয়মের বাইরে। প্রচলিত নিয়ম অনুসারে বিরোধী দল হিসেবে অফিসিয়ালি স্বীকৃতি পেতে হলে অত্র দলের আসন সংখ্যা ন্যূনতম ২৫ হতে হবে, যা বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে নির্ধারিত হয়। পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফলে জাতীয় পার্টির সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচিত সদস্য ছিল তাই তারা সংসদে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল। যদিও তাদের ভূমিকা ছিল নামে মাত্র। সমালোচকের দৃষ্টিতে, গণতান্ত্রিক ইতিহাসে তারাই একমাত্র বিরোধী দল যারা ভূমিষ্ঠ হয়েছে সরকারী দল আওয়ামী লীগের উদর হতে। এতসব বিবেচনায় বাংলাদেশের এবারকার সংসদ হতে চলেছে বিরোধী দলবিহীন। অতএব এ আশঙ্কা করলে ভুল হবে না যে, আগামীর সংসদ একদলীয় সংসদ হতে যাচ্ছে, এর মাধ্যমেই পুরনো বাকশালী ব্যবস্থা সংবিধানের আবরণে আবারও প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সংসদীয় গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটার সম্ভাবনাই বেশি।

    লেখক – অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়