Category: Uncategorized

  • আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মিশে জামায়াতের অরাজকতার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে

    আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মিশে জামায়াতের অরাজকতার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের ভাদালিয়া পাড়া ও বড়িয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মিশে জামায়াত অরাজকতা সৃষ্টি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়েছে, দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরাই তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর এলাকায় বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। এর জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বটতৈল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলু মেম্বার ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল মেম্বার তাদের সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান এবং কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের কয়েকশ বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের কিছু কর্মী বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা ফজলু মেম্বারের সমর্থকদের জামায়াত নেতা হিসেবে দাবি করে তাদের বাড়িতে যান কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মাঝেমধ্যে ছোটখাটো ঝামেলা লেগেই আছে।

    এদিকে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে জামায়াত সমর্থিত আজগর মণ্ডলের ছেলে মসলেমের কয়েকটি কলাগাছ এবং সমসের মণ্ডলের ছেলে রেজাউলের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে রেজাউলের স্ত্রী পারভীন আক্তার দাবি করেন, তার বাবা বিএনপি নেতা জামাত আলী ও হান্নানের লোকজনই তাদের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে নিয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা জামাত আলী বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।এছাড়াও প্রবাসী আরিফের বাড়িতেও আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ায় এলাকায় আরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

  • নবাগত পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কুষ্টিয়া পৌর নাগরিক অধিকার পরিষদের মতবিনিময়

    কুষ্টিয়া পৌর নাগরিক অধিকার পরিষদের সদস্যরা নবাগত পৌর প্রশাসক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামে-কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:

    নবাগত পৌর প্রশাসক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামের সঙ্গে মতবিনিময় ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে কুষ্টিয়া পৌর নাগরিক অধিকার পরিষদ।

    সোমবার বেলা ১টার দিকে কুষ্টিয়া উপপরিচালক (উপসচিব), স্থানীয় সরকার দপ্তরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌর নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু, সদস্য সচিব কে এম জাহিদ, সদস্য জাহাঙ্গীর হাফিজ লালু, শাহারিয়া ইমন রুবেল, আবু মনি সাকলায়েন এলিন, আব্দুর রউফ রুবেল, আজমত আলী খান মনি, জোরায়েস হোসেন, সানজানা ইসলাম প্রেম, সোহাগ আলী, সাদ্দাম হোসেন জীবন, দেব উত্তমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    মতবিনিময়কালে অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু কুষ্টিয়া পৌর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলোর প্রতিকারে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি কুষ্টিয়া পৌর নাগরিক অধিকার পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও লক্ষ্য তুলে ধরেন।

    এসময় নবাগত পৌর প্রশাসক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, পৌর নাগরিকদের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

  • শৈলকূপায় শ্বশুরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পুত্রবধূ নিহত

    শৈলকূপায় শ্বশুরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পুত্রবধূ নিহত

    প্রতীকী ছবি

    আশরাফুল আলমঃ

    ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় শ্বশুরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লিমা খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহত লিমা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী।

    রোববার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুর মুকুল শেখকে আটক করেছে পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে নিজ ঘর থেকে বাড়ির উঠানে যান লিমা খাতুন। এ সময় উঠানে থাকা মুকুল শেখ হাতে থাকা দা দিয়ে পুত্রবধূর শরীরে আঘাত করেন। তার চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, “লিমা খাতুনকে আমরা মৃত অবস্থাতেই পেয়েছি। তার বুকের ওপর ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অঙ্গহানির কারণে মৃত্যু ঘটায়।”

    শৈলকূপা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান বলেন, “ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মুকুল শেখকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।”

  • সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

    সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

    আশরাফুল আলমঃ

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা একযোগে আন্দোলনে নেমেছে।

    শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সাজিদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহপাঠী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় প্রশাসন ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবন ত্যাগ করতে দেখা যায়।বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘তুমি কে, আমি কে—সাজিদ সাজিদ’, ‘প্রশাসন প্রশাসন, ধৈঞ্চা ধৈঞ্চা’—ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো ক্যাম্পাস।

    শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, “সাজিদের মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। যদি প্রশাসন দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না করে, তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে বাধ্য হবো।”

    বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকরা। তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন—সাজিদের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক রিপোর্ট প্রকাশ,পুরো ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন,নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ,পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন,বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ।এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।

    প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহের নাক-মুখে রক্ত এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি নিছক পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি হতে পারে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

    সাজিদের বাবা, সহপাঠী ও শিক্ষকরা এ ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

  • কুষ্টিয়ায় কাব্য পরিষদের আয়োজনে বর্ষাবরণ

    কুষ্টিয়ায় কাব্য পরিষদের আয়োজনে বর্ষাবরণ

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    কুষ্টিয়া কাব্য সংসদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হলো বর্ষা মঙ্গল অনুষ্ঠান। ৯ জুলাই বুধবার ২০২৫ ইং তারিখে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির কনফারেন্স রুমে কুষ্টিয়া কাব্য সংসদের আয়োজনে বর্ষাকে বরণ করে নেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে তুলিকা বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কাব্য সংসদের সভাপতি কনক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তোফাজ্জেল হোসেন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসিম কিয়াম, নদী পরিব্রাজক দল কুষ্টিয়ার সভাপতি খলিলুর রহমান মজু, শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার সুজন রহমান, কবি ও সংগীত শিল্পী সুব্রত চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিরা বর্ষা নিয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনে আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিশির কুমার বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার, সোহেলী পারভীন ঝুমুর, প্রভা সরকার, তিলোত্তমা বিশ্বাস, সোনিয়া রহমান, হাসান টুটুল, শঙ্কু শেখর  চক্রবর্তী, বিপ্লব মৈত্র, তুষার রেজা, উন্নতি বিশ্বাস, শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, আব্দুর রাজ্জাক, ডা. তাজউদ্দিন, সাজেদুল ইসলাম, আসলাম হোসেন, আবুল কালাম আজাদ,  পরান মাস্টার, ফিরোজা খানম পান্নাসহ আরো অনেকে। শেষাংশে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শফিক জুয়েল ও শিল্পী সুব্রত চক্রবর্তী।

  • স্বামীর নির্যাতনের স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ!

    প্রতীকী ছবি

    আশরাফুল আলম, শৈলকুপা প্রতিনিধিঃ

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত পিংকী রানী দাস (২৭) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার শ্রীকান্ত কুমার দাসের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির ছয়জনের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এজাহারে বলা হয়েছে, আট বছর আগে পারিবারিকভাবে পিংকী রানী দাসের বিয়ে হয় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী গ্রামের সুমন কুমার দাসের (৩২) সঙ্গে। তাদের ঘরে তিন বছরের একটি কন্যা সন্তান এবং আট মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। অভিযোগ মতে, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন কারণে পিংকীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

    গত ২১ মে সন্ধ্যায় স্বামীর কাছে কাপড়চোপড় কিনে দেওয়ার অনুরোধ করেন পিংকী। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে, অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী সুমন কুমার দাস, শ্বশুর ভগিরত দাস, প্রতিবেশী রামকৃষ্ণসহ আরও কয়েকজন মিলে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিংকীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আরও নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরে আহত অবস্থায় তাকে তার বাবার বাড়ির লোকজন ২৩ মে বিকেলে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে বিকেলে পিংকী মারা যান।

    কুষ্টিয়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার মণ্ডল লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

    নিহতের বাবা শ্রীকান্ত কুমার দাস বলেন, ‘মেয়ে মারা যাওয়ার পর এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম যে, মামলা করতে কিছুদিন সময় লেগেছে। আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

    শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খাঁন জানান, গতকাল রাতে এজাহার পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • কোয়ালিটি একাডেমীক ফ্যামিলি স্কুলের এসএসসি-২০২৫ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান

    কোয়ালিটি একাডেমীক ফ্যামিলি স্কুলের এসএসসি-২০২৫ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    কোয়ালিটি একাডেমীক ফ্যামিলি স্কুলের আয়োজনে এসএসসি-২০২৫ ব্যাচের বিদায় ও প্রাত্তণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

    গত শনিবার সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বাজার সংলগ্ন কোয়ালিটি একাডেমীক ফ্যামিলি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উক্ত বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, কুষ্টিয়া কোর্টের স্পেশাল পিপি এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু।

    বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি এ্যাড. অপু বলেন, স্কুলের শিক্ষক ও তোমাদের অভিভাবকরা তোমাদের দিকে চেয়ে আছে। ইনশাআল্লাহ তোমরা ভালো রেজাল্ট করে তোমাদের স্কুল ও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। তোমরা লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হবে, এই দোয়া আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য রইল। জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে তোমরা নিজেদের গড়ে তুলবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কোয়ালিটি একাডেমীক ফ্যামিলি বিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা শাহিনুর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আসিফ ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া টিটিসির সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর সোহেল রানা, বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষক ও বিজ্ঞানী গৌতম কুমার রায়।

    অনুষ্ঠানে ১শত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

  • কুষ্টিয়ায় বিএনপি’র ত্যাগী নেতাকর্মীদের কমিটিতে না রাখায় বিক্ষোভ

    কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

    কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি ত্যাগী ও দলের দুর্দিনের নেতা কর্মীদের। অযোগ্য, সুবিধাভোগী ও টাকা ওয়ালাদের যায়গা করে দেওয়া হয়েছে বর্তমান কমিটিতে, এমন আলোচনা এখন জেলার সর্ব মহলে। এতে করে দলের ভাব মূর্তি নষ্ট ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে বলে মনে করেন দলটির দুর্দিনের কর্মীরা।

    বর্তমান কমিটিতে দুর্দিনে দলের হাল ধরা অনেক নেতাকর্মীদের যায়গা হয়নি এবং একপেষে ও অযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি করা হয়েছে, এসব হাইব্রিড নেতাদের বাদ দেওয়ার দাবিতে ও দুর্দিনে দলের পাশে থেকে দলের জন্য যারা ত্যাগ শিকার করেছে তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১১ নভেম্বর) বেলা সারে তিনটার সময় শহরের বড় বাজার রেলগেট থেকে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন মিলন চৌধুরী নেতৃত্বে মিছিলটি শুরু হয়ে কুষ্টিয়া একতারা মোড়ে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

    এ সময় মিলন চৌধুরীর সমর্থিত নেতা কর্মীরা বলেন, যারা কখনো জেল, জুলুমের শিকার হয়নি, দলের পক্ষে মিছিল সমাবেশে পাওয়া যায়নি, এমনকি হাসিনার সরকারের সময় কুষ্টিয়াতে পাওয়া যায়নি তাদেরকে নিয়ে কমিটি সাজানো হয়েছে। আর যারা দীর্ঘ ১৭ বছর হাসিনা সরকারের নির্যাতনে জর্জরিত, দলের জন্য জীবনের অর্ধেক সময় জেলখানায় কাটিয়েছে তাদেরকে বাদ রেখেছে, অবিলম্বে এই ধরনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দলে জায়গা দিয়ে হাইব্রিড নেতাদের দল থেকে বাদ দিতে হবে অন্যথায় বৃহৎ কর্মসূচি দেওয়া হবে।

    মিছিল শেষে মিলন চৌধুরী বলেন, বর্তমান কমিটিতে অযোগ্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ব্যক্তি প্রবেশ করেছে, এবং ত্যাগীদের জায়গা হয়নি, ৩১ সদস্যের কমিটি বৃদ্ধি করে ত্যাগীদের জায়গা দিতে হবে এবং অযোগ্যদের বাতিল করতে হবে, তা না হলে পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সামনে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

    মহিউদ্দিন মিলন চৌধুরী সদ্য সাবেক জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক ও সাবেক প্যানেল মেয়র।আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সরকারের আমলে ছিলেন বাড়ি ছাড়া, নির্যাতন, অত্যাচার ও প্রশাসনের চাপকে উপেক্ষা করে বিএনপির সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ছিলেন রাজপথে, হাসিনার সরকারের সময় মিলন চৌধুরীকে ৮-১০ বার জেলে যেতে হয়েছে। ৫ আগষ্ট এর আগে ছাত্র জনতার আন্দোলনে তার কর্মীদের নিয়ে স্ব-শরীরে যোগ দিতে দেখা যায়।

    উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

    তারপর থেকেই বর্তমান কমিটি নিয়ে সমালোচনা ঝড় উঠেছে জেলায়।

  • বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ধরিয়ে দিন: এ্যাড. অপু

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকায় শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শান্তি সমাবেশে চলমান সংকট মোকাবেলায় সকলকে সতর্ক থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু।
    রবিবার(১১ আগস্ট) রাত ৯ টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া ক্রীসাস ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
    তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক, ভোট ডাকাত, গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এছাড়াও আওয়ামী লীগের আর্শীবাদপুষ্ট পুলিশের কিছু উর্ধ্বতন কর্মকতা পালিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। ফলে দেশে একধরনের প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়। এই সুযোগে একটি কুচক্রী মহল পরাজিত শক্তির মদদপুষ্ট হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে সকলেই সচেতন থাকবেন। কিছু সুবিধাবাদী মানুষ রয়েছে তাঁরা আওয়ামী লীগের সাথে থেকে নানা অপকর্ম করেছে। এখন তাঁরা বিএনপি সাথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। এটা কোন ভাবেই করতে দেওয়া হবে না। তারা আমাদের ভেতরে ঢুকে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল। এই দল সাধারণ মানুষের ভালোবাসার দল। তাই আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা সকলেই সজাগ থাকবেন। কেই যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরিয়ে দিন।

    উক্ত শান্তি সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক ও ক্রীসাস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক মাসুদ পারভেজ রাসেল, যুগ্ম সম্পাদক শাজাহান আলী, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা যুবায়ের আল আজাদ জননী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কৃসাস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজ্জামান তিতাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জীবন‌।
    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ১০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোনয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ, জনি, সোহেল, রুবেল, মেহেদী, ক্রীসাস ক্লাবের সদস্য মুন্না, নান্নু, শাকিল, অরুপ, সাদমান, অমি, আলভি, সৌরভ, ফজলু, সুজন প্রমুখ।

  • কুষ্টিয়ার ডেপুটি কমিশনারের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান! 

    কুষ্টিয়া কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট অফিসের ডেপুটি কমিশনার সুশান্ত পাল এর ফাইল ছবি

    কুষ্টিয়া অফিসঃ

    কুষ্টিয়া কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট অফিসের ডেপুটি কমিশনার সুশান্ত পাল এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

    জানা যায়, সুশান্ত পাল ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করার পর কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট অফিসের ডেপুটি কমিশনার হিসাবে কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। সেখানে চাকুরী অবস্থায় প্রচুর পরিমানে দুর্নীতি করার পর তাকে বদলি করা হয় কুষ্টিয়াতে। এখানে বদলি হয়ে এস নতুন একটি টিম তৈরী করে রাজস্ব রেয়াতের মাধ্যমে হোটেল, রেস্তোরা, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সহ সকল প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে অবৈধ অর্থ আদায় করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঐ সকল ব্যবসায়ীদের কাছে সুশান্ত পাল এখ মূর্তিমান আতঙ্কে পরিনত হয়েছে। 

    উল্লেখ্য, কক্সবাজারের কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট অফিসের সাবেক ডেপুটি কমিশনার ও মোটিভেশনাল স্পিকার সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একজন উপ-সহকারী পরিচালককে সদস্য করে অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। সুশান্ত পাল বর্তমানে কুষ্টিয়া কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের ডেপুটি কমিশনার হিসেবে কর্মরত। ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। ফেসবুকে তার অনুসারী প্রায় ১.৮ মিলিয়ন। চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি। সুশান্ত পাল ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে তারা হলেন- রাজস্ব কর্মকর্তা সব্যসাচী শিকদার, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, আনিসুল করিম, সৈয়দ আবু রাসেল, মো. আলাউদ্দিন ও তৌফিক আহমেদ।

    কক্সবাজারে কলাতলী বিচের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সুশান্ত পাল ও তার ছয় সহযোগী পর্যটন কেন্দ্রটির নামিদামি হোটেল-রেস্টুরেন্টের রাজস্ব রেয়াতের মাধ্যমে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে সরকারকে বছরে কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত করেছেন। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালে একটি অভিযান পরিচালনা করে দুদক। ওই অভিযানে হোটেল মালিকদের রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পায় সংস্থাটি। এসব বিষয় আমলে নিয়ে দুদকের গোয়েন্দা বিভাগ অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে। কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা এক প্রতিবেদনে দুদককে জানান, কক্সবাজারে চার শতাধিক হোটেল-রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসবের অন্তত ৩০টি হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও জাহাজের রাজস্ব ফাঁকির আলামত খুঁজে পেয়েছে দুদক। পরে এ বিষয়ে কমিশন থেকে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়।

    দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ৩১ জানুয়ারি সুশান্ত পালকে তলব করে দুদক। ১৮ ফেব্রুয়ারি সুশান্ত পালকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সংস্থাটি। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে দুদক কর্মকর্তাদের অনেক প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। অভিযোগ ও জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে মুখ খুলেননি সুশান্ত পাল।

    কুষ্টিয়াতে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব রেয়াতের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে চলেছে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার এক ডায়গনষ্টিক সেন্টার তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলাও করেছে, অন্য আরেকটি ক্লিনিকের কাছ থেকে বৃহত পরিমান অর্থ আদায় করেছে যা দৃশ্যমান। কুষ্টিয়ার সকল ব্যবসায়ীরা দুদকের দৃষ্টি আকর্শন করে বলেন, কক্সবাজারে দুর্নীতি করে আসার পর এখানে রাজস্ব রেয়াতের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে যাচ্ছে আমার তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। এ বিষয়ে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।