
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতাকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ‘কুদ্দুস’ নামে পরিচিত ওই নেতা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত বাহিনী পরিচালনার মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন এবং বর্তমানে আত্মগোপনে থেকেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুদ্দুস হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে নদী দখল, সরকারি জমি দখল করে বিক্রি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিপণন, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই চক্র পরিচালনা এবং ড্রেজার দখলের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পদ্মা ও গড়াই নদীসংলগ্ন এলাকায় তার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত ছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, ‘কুদ্দুস বাহিনী’ নামে একটি সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তোলেন তিনি, যার মাধ্যমে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং আধিপত্য বজায় রাখা হতো। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনাতেও কুদ্দুস ও তার বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন তাকে অবৈধ অস্ত্রসহ মহড়া দিতে এবং হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এরপর ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে হরিপুরের শাহদাহ এলাকায় গোপনে অবস্থান করে দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন তিনি। পূর্বের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, আত্মগোপনে থাকলেও কুদ্দুস মাঝে মাঝে হরিপুর বাজার এলাকায় গোপনে যাতায়াত করেন। এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।অন্যদিকে, গত জাতীয় নির্বাচনে তিনি গোপনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
এলাকাবাসী দ্রুত তার গ্রেপ্তার এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।