
কুষ্টিয়া অফিস:
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দাপ্তরিক সময় শুরু হওয়ার পরও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) সকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের কার্যালয়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন স্থানীয় সাংবাদিকরা। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে প্রায় ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সাংবাদিকরা কার্যালয়ে অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কর অঞ্চলের কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম এবং সহকারী কর কমিশনার মনজুরুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে অফিসে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দাপ্তরিক সময়ে সরকারি অফিসে উপস্থিত থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েও তাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এতে করে জনসেবামূলক এই দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি অফিসগুলোতে সকাল ৯টার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত থাকা এবং অন্তত সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরে অবস্থান করার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের কার্যালয়ে এর ব্যত্যয় দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। এতে শুধু অফিসের কার্যক্রমই ব্যাহত হয় না, বরং সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারও বাধাগ্রস্ত হয়।
এ বিষয়ে কর অঞ্চল কুষ্টিয়ার সহকারী কর কমিশনার মনজুরুল আলম বলেন, কুষ্টিয়া কর অঞ্চল একটি নবগঠিত জোন হওয়ায় এর আওতায় থাকা বিভিন্ন সার্কেলের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা এখনো সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, এই জোনের অধীনে মোট ২২টি সার্কেল রয়েছে এবং এগুলোর অনেকগুলোর জন্য এখনো ভবন ভাড়া, সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলমান।তিনি বলেন, কুষ্টিয়া শহরেই মোট নয়টি সার্কেল রয়েছে। এসব সার্কেলের কার্যালয় স্থাপন ও কার্যক্রম চালুর জন্য আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। আমি সকাল ৯টার দিকে অফিসে এসে নতুন ভবনের কাজ দেখতে বের হয়েছিলাম।
এ সময় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা ও টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত। যেহেতু আমার সামনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।”
অন্যদিকে কর অঞ্চল কুষ্টিয়ার কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি নবগঠিত জোন এবং বর্তমানে তারা খুলনা কর অঞ্চলের অধীনস্থ পুরোনো কার্যালয়ে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নতুন এই জোনের আওতায় থাকা অফিসগুলো চালু করার জন্য কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তিনি বলেন, নতুন একটি জোন গঠন করতে আমাদের দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন অফিস বুঝে নেওয়া, ভবন প্রস্তুত করা এবং সার্কেলগুলো চালু করার কাজ চলছে। এজন্য অনেক সময় অফিসের বাইরে বিভিন্ন স্পটে থাকতে হয়। সম্ভবত সেই সময় আমরা স্পটেই ছিলাম।
তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি দপ্তরে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সচিব (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রথম সচিব (ট্যাক্সেস লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) মোঃ জাফর ইমাম বলেন, অফিস সময়ে কর্মকর্তাদের অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। তবে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে দেখভালের দায়িত্ব প্রশাসন বিভাগের, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলাই ভালো।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে এনবিআরের প্রশাসন বিভাগের প্রথম সচিব (বোর্ড প্রশাসন) মোঃ জাহিদ নেওয়াজ এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।