Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বণ্টনকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন ঝাউদিয়া ইউনিয়নে রাজনৈতিক নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ঈদকে সামনে রেখে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় থাকা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিজিএফ চাল বণ্টন নিয়ে অংশীদারিত্বের প্রশ্নে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় এখনো চূড়ান্ত উপকারভোগীর তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝাউদিয়া ইউনিয়ন শাখার আমির মো. বাবুর আলী ইউনিয়নের প্রশাসক বরাবর দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রশাসনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ভিজিএফ চাল বণ্টনে ৩৫ শতাংশ অংশ মেনে নেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপিকে যদি ৫০ শতাংশ দেওয়া হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীকেও সমানভাবে ৫০ শতাংশ দিতে হবে।

    তিনি বলেন, “ইউনিয়নের জনগণের স্বার্থে যে কোনো সমন্বয় আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত, কিন্তু বিএনপির চেয়ে কম অংশ নিয়ে নয়।” গত ১১ মার্চ তিনি ইউপি প্রশাসক বরাবর এই লিখিত বক্তব্য জমা দেন।

    অন্যদিকে একই দিনে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরাও প্রশাসকের কাছে পৃথক লিখিত আবেদন জমা দেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে ভিজিএফ তালিকার মোট বরাদ্দের মধ্যে ৫০ শতাংশ যদি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে না দেওয়া হয়, তাহলে তারা তালিকা প্রস্তুত ও চাল বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

    স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক নেতা ও ইউপি সদস্যদের এই টানাপোড়েনের কারণে ভিজিএফ কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে ঈদের আগে সরকারি সহায়তার আশায় থাকা অনেক অসহায় মানুষ উদ্বেগে রয়েছেন।ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সোহরাব হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে সব পক্ষকে ডেকে দুই দফা বৈঠক করেছি। প্রয়োজন হলে আরও একদিন বসতে হতে পারে। সমাধান হলেই চাল বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

    রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো কোনো বিভাজন চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে। সবাই এক জায়গায় বসে সমাধানে পৌঁছালে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ইউপি সদস্যরা থাকার পরও কেন রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে বিতরণের বিষয়টি সামনে আসছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যে চিঠি পেয়েছি সেখানে মাননীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশক্রমে বণ্টনের কথা বলা আছে। তবে যেহেতু এটি ইউনিয়ন পরিষদের নামে এসেছে, তাই সমন্বয়ের মাধ্যমেই বিতরণ করা হবে।

    এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান বলেন, ভিজিএফ চাল সাধারণত চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সমন্বয়ে বিতরণ করার কথা। এখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার কথা নয়। এই চাল মূলত অতি দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ।

    এদিকে দ্রুত সমাধান করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করে চাল বিতরণ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে ঈদের আগেই দরিদ্র মানুষ সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।

    Spread the love