Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের ভাদালিয়া পাড়া ও বড়িয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মিশে জামায়াত অরাজকতা সৃষ্টি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়েছে, দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরাই তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর এলাকায় বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। এর জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বটতৈল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলু মেম্বার ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল মেম্বার তাদের সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান এবং কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের কয়েকশ বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের কিছু কর্মী বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা ফজলু মেম্বারের সমর্থকদের জামায়াত নেতা হিসেবে দাবি করে তাদের বাড়িতে যান কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মাঝেমধ্যে ছোটখাটো ঝামেলা লেগেই আছে।

    এদিকে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে জামায়াত সমর্থিত আজগর মণ্ডলের ছেলে মসলেমের কয়েকটি কলাগাছ এবং সমসের মণ্ডলের ছেলে রেজাউলের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে রেজাউলের স্ত্রী পারভীন আক্তার দাবি করেন, তার বাবা বিএনপি নেতা জামাত আলী ও হান্নানের লোকজনই তাদের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে নিয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা জামাত আলী বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।এছাড়াও প্রবাসী আরিফের বাড়িতেও আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ায় এলাকায় আরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

    Spread the love