নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বাংলা মদ। অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশীয় এই বাংলা মদের দোকান ছাড়াও শহরের প্রায় সাতটি স্থানসহ আরও একাধিক স্থানে মাদক ব্যবসায়ীরা মদ বিক্রি করছেন। এতে এলাকার নানা শ্রেণির মানুষ ও তরুণেরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। অথচ প্রশাসন প্রকাশ্যে মদ বিক্রি বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ সুযোগে প্রতিনিয়ত এই বাংলা মদের দোকানে ভিড় করছে নানা বয়সী ক্রেতারা।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, কুমারখালীর এই দেশীয় মদের দোকানের মালিক সুজিত সিংহ রায় পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এই মদের দোকান চালাতেন সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের চাচা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান নিপুনের সহযোগিতায় এবং তাকে সাথে নিয়ে সব কিছু ম্যানেজ করতেন। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুদিন সরকারি নিয়মকানুন মানলেও এখন বিএনপির কিছু কথিত নেতার নাম ভাঙিয়ে এবং তাদের সাথে নিয়ে অবৈধভাবে সব কিছু ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছেন খোলা বাজারে এই মদের ব্যবসা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমারখালী পৌরসভার গরুর হাট পাড়ায় সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশীয় বাংলা মদের দোকান রয়েছে। সকাল নয়টা থেকে দুপুর দুটো পযন্ত রোজার সময় খোলা থাকার কথা থাকলেও কালোবাজারি করে বেশি দামে মদ বিক্রি করার অভিযোগ ও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এই মদের দোকান থেকে কার্ডধারী মাদকসেবীরা মদ কিনতে পারবে বলে নিয়ম থাকলেও কিশোর থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ এখান থেকে মদ কিনছে বিনা বাধায়। এমনকি এখানকার মদ এখানেই খেয়ে শেষ করার শর্ত থাকলেও অধিকাংশ মদই চলে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। এদের মধ্যে আবার অনেকে একাধিকবার মদ কিনে কোমল পানীয়র বোতল ভর্তি করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে।সুজিত সিংহ রায় এজেন্টের মাধ্যমে কমিশন ভিত্তিতে কুমারখালী শহরের সুইপার কলোনি, রেলপাড়া, বাংলা মদের দোকানের পাশের বেশ কয়েকটি চা-সিগারেটের দোকানে কালোবাজারীর মাধ্যমে কোমল পানীয় সাথে বাংলা মদ বিক্রি করে। এছাড়াও আরও প্রায় সাতটি মদ সেবন ও বিক্রয়ের স্পট চালানোর অভিযোগ রয়েছে সুজিদের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বাংলা মদের দোকানের ম্যানেজার পুলকের সহযোগিতায় শহরের বিভিন্ন স্থানে বাংলা মদ বিক্রি করছেন সুজিদ সিংহ রায়।
শিশু কিশোরদের কাছে ও কার্ড ছাড়া মদ বিক্রির বিষয়ে বাংলা মদের দোকানের ব্যবস্থাপক পুলকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুধু কার্ডধারীদের কাছে মদ বিক্রি করেতো দোকান চালানো যায় না। তাই দুই একজনের কাছে কার্ড ছাড়া বিক্রি করি।
কুমারখালী বাংলা মদের দোকানের মালিক সুজিত সিংহ রায়ের কাছে কার্ড ছাড়া শিশু কিশোরদের কাছে মদ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কার্ড ছাড়া মদ বিক্রি করি না। কার্ড ছাড়া মদ বিক্রির ভিডিও চিত্র থাকার কথা জানালে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন এতো কথা বলার সময় নাই।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো.আবুল কালাম আজাদ বলেন, কার্ড ছাড়া মদ বিক্রির কোন সুযোগ নাই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এমন ঘটনা ঘটলে খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এই ব্যাপারে প্রতিকার দেখতে পাবেন।