নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুষ্টিয়ায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ স্যালো ইঞ্জিন চালিত যান। একেরপর এক ঝরছে প্রাণ। গত দুই দিনে কুষ্টিয়ায় দুই শিশু নিহত হয়েছে। এদিকে এই অবৈধ ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক দিনের বেলায় সড়কে চলাচল বন্ধের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
জানা যায়, গত রবিবার সকালে বালিভর্তি ট্রলির ধাক্কায় কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস প্রতীতি বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইব্রাহিম (৫) নিহত হয় এবং ইব্রাহিমের দাদি আনোয়ারা (৫০) গুরুত্বর আহত হয়। নিহত ইব্রাহিম সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে।
এছাড়াও সোমবার সকালে কুষ্টিয়া-প্রাগপুর মহাসড়কের দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কৈপাল হিসনাপাড়া মোড়ে ইটভর্তি ট্রলির ধাক্কায় সাকিম হোসেন (১২) নিহত হয়েছে।
একেরপর এক মৃত্যুর মিছিলে লম্বা হলেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক।প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, শিশু ইব্রাহিম তার দাদীর সঙ্গে স্কুলে আসার সময় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অতিক্রমকালে বালু বোঝাই ট্রলি তাদের দুজনকে ধাক্কা দেয়। এতে ইব্রাহিম সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। দুর্ঘটনায় ইব্রাহিমের দাদী আনোয়ারা (৫৫) গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়াও সোমবার সকালে বাবাকে খাবার দিয়ে ফেরার পথে ইটভর্তি ট্রলির ধাক্কায় সাকিম হোসেন (১২) নিহত হয়। নিহত শাকিব দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর গ্রামের আকবর মণ্ডলের ছেলে ও তারাগুনিয়া মডেল প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবাকে খাবার দিয়ে শাকিব সাইকেল চালিয়ে তারাগুনিয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটভর্তি ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এবিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সভাপতি কে এম জাহিদ বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করব। এই অবৈধ যানের কারণে মৃত্যুর মিছিল লম্বা হচ্ছে। আমরা এই অবৈধ যান মহাসড়কে চলাচল বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শেখ শাহাদত আলী জানান, আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যেই গাড়িগুলো পচনশীল পণ্য বহন করে সেই গাড়িগুলো মানবিক দিক বিবেচনা করে ছেড়ে দেয়া হয়। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত ১৭ থেকে ১৮টি অবৈধ যান আটক করা হয়েছে।