Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    প্রতীকী ছবি

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    সারা বাংলাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির মহারাজ্য গড়েছিল আওয়ামী লীগের নেতাদের যোগসাজশে বিভিন্ন অফিসের সরকারি কর্মকর্তারা। কুষ্টিয়ার সরকারি প্রত্যেকটি অফিসেই চলেছে লাগামহীন দুর্নীতি। এইসব সরকারি অফিসাররা কখনো অনিয়ম কখনো কোন প্রকল্পের কাজের পারসেন্টেজর মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করেছে।

    জানা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা অপচয় বা নষ্ট হয়েছে। গত ১৫ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে খরচ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর ৪০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা লুটপাট করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে মূলত রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, ঘুষ এবং বাড়তি খরচ দেখিয়ে এই বিপুল অর্থ লুটপাট করেছেন বিদায়ী ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও সুবিধাভোগীরা। আর এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তারাও। সারা বাংলাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও দুর্নীতিতে মগ্ন ছিল রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তারাও। কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বিভিন্ন মামলায় পলাতক থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতিতে বিভিন্ন কাজ ও প্রকল্পের পার্সেন্টেজ নিয়ে সুবিধা তৈরি করে দেওয়া সরকারি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছে আরাম আয়েশেই। কুষ্টিয়া জেলা জুড়েই বিভিন্ন সরকারি জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক সরকারি ও আধা সরকারি অফিসেই চলেছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। আর এইসব দুর্নীতিতে প্রধান ভূমিকা গুলোই পালন করেছে এইসব সরকারি অফিসের কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাগণ। কুষ্টিয়া শিক্ষা অফিস, গণপূর্ত, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সড়ক, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, বিএডিসি, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সমাজ সেবা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা মেতে উঠেছিল বিভিন্ন কাজের পারসেন্টেজ হিসেবে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। এটা চাকরি নয় চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা খুলে বসেছিল এসব কর্মকর্তারা। বিভিন্ন সময় এইসব ডিপার্টমেন্ট বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লেখালেখি হলে কিছু সংখ্যক কর্মকর্তাদেরকে শাস্তি হিসেবে বদলি করা হতো। কিন্তু অধিকাংশই থেকে যেত ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিশোর ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের জোক সাঁজো ছিল আন্ডারগ্রাউন্ডের চরমপন্থীদের সাথে। কোন সংবাদ কিংবা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলেও হেনস্থার শিকার হতে হতো তাদেরকে। অনেক প্রকল্পের খরচ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়ে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার বিল তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। কুষ্টিয়ার আওয়ামী লীগের নেতারাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। কিন্তু কুষ্টিয়ায় যেসব সরকারি কর্মকর্তা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে ছিল তারা আজ পদ পদোন্নতিসহ বাহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে কুষ্টিয়ার সচেতন মহল বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কারা চাকরি করেছে এবং সে সময় কি ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে সেগুলো অনুসন্ধান করে তাদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান। এবং যারা এই ১৫ বছর চাকরি করে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সব সম্পত্তিও উদ্ধার করার পরামর্শ দেন তারা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরো ভয়াবহ তথ্য উঠে আসছে যা প্রতিটি সরকারি অফিসের ১৫ বছরে কোন কোন কর্মকর্তারা চাকরি করেছে এবং সেসময় কি ধরনের দুর্নীতি হয়েছে যা আলাদা আলাদা করে প্রকাশ করা হবে। (চলমান)

    Spread the love