Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    এ যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। ইচ্ছা করলেই হাতের নিমিষেই পাওয়া যায় সবকিছু। পানির মতো যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রের আকার ধারণ করেন। তবে এক্ষেত্রে একটু আলাদা। যে পাত্রে যান সেই পাত্রের আকার ধারণ করেন। বলছি, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের গ্রাম হালসা এলাকার আহাম্মদ আলীর কথা। সুযোগ সন্ধানী সুচতুর মানুষটি ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথেই দলও পরিবর্তন করে থাকেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে মিলেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

    অনুসন্ধানে জানা যায়‌, একসময় হালসা কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন আহাম্মদ আলী। ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও টেন্ডারবাজি করতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলে যোগদান করেছেন তিনি। সবশেষ ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগে যোগদান করেন আহাম্মদ। সেসময় আওয়ামীলীগ সমর্থিত ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে খুশি করতে এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। পরবর্তীতে হাসানুল হক ইনু এমপি প্রার্থী হলে তিনি তার পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেন আহাম্মদ। প্রচারনার অংশ হিসেবে নিজের ছবি ও নামসহ ফেস্টুন টাঙিয়ে ছিলেন বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়াও তিনি নৌকা প্রতীকের লিফলেটও বিতরণ করেছেন। এরপর জাসদ নেতাদের সাথে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও টেন্ডারবাজ সুরঞ্জন ঘোষের সাথে আতাত করে আওয়ামীলীগে যোগ দেন তিনি। আর তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। আওয়ামীলীগ নেতা ও মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন ও সুরঞ্জন ঘোষের সাথে বিভিন্ন সরকারি দফতরে টেন্ডারবাজি শুরু করেন আহাম্মদ।

    কামারুল আরেফিন মিরপুর-ভেড়ামারা আসনের এমপি প্রার্থী হলে তিনি সরাসরি কামারুলের সাথে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেন। ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতেও তার যথেষ্ট ভুমিকা ছিল।

    এখানেই শেষ নয়, জুলাই অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনের অবসান হলে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দের কাছে ধর্ণা দিতে শুরু করেন তিনি। যেটি এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির যেকোনো দলীয় অনুষ্ঠান হলেই সেখানে দেখা মেলে কর্মী বাদে একাই নেতা আহাম্মদের। সেখানে গিয়ে নেতাদের সাথে কৌশলে ছবি তুলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন তিনি।

    এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজনৈতিক দলবাজি ছাড়াও তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও আন্তঃজেলা চোর চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য তিনি এলাকায় ‘সুটার আহাম্মদ’ নামে পরিচিত। গত বছর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুইজন সক্রিয় সদস্য আটক হয়। আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুসারে আহাম্মদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুইটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতৃবৃন্দের সাথে তার গভীর সখ্যতা রয়েছে। ক্রমাগত ক্ষমতার খোলস পাল্টে ‘মেসার্স সিনথিয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডারবাজি করে যাচ্ছেন আহাম্মদ আলী। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আহাম্মদ আলীর সাথে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

    বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতৃবৃন্দের সাথে আহাম্মদের সখ্যতাসহ নানা অপকর্মের সাতকাহন জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।

    Spread the love