Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    তিতাস আহম্মেদ:

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নিহতের স্বামী মো. ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

    দায়েরকৃত অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী ও তিন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান (প্রধান আসামি), সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত শিক্ষকের স্বামী চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আসমা সাদিয়া রুনার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    জানাজা ও দাফন শেষে নিহতের সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্বজনরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন আসমা সাদিয়া রুনা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান আকস্মিকভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে হামলাকারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। একজন মেধাবী শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানকে এভাবে হারানোর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    Spread the love