
আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জ্বালানি তেল পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক কোম্পানি। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতের বিনিয়োগ বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ইকুইরাস সিকিউরিটিজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল কাঁচা তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথনির্ভর। তেহরান যদি প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যা বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ৩ শতাংশ। চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই তেল সরবরাহ। বিশ্লেষকদের মতে, কেবল ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলেও অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে ইরানের ওপর হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন পরিবহন বিভাগ হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের জলপথে উল্লেখযোগ্য সামরিক তৎপরতার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।