ধারবাহিক পর্বের প্রথম পর্ব।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আঃলীগের পদ পেতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে বাংলা মদ ব্যাবসায়ী গৌতম কান্তি চাকীর ছেলে মানব চাকী। হিন্দু হয়েও মসজিদে জুতা পায়ে ঢুকে মুসুল্লিদের হকিস্টিক দিয়ে মারধর করে জামায়াত শিবির জঙ্গি তকমা লাগিয়ে ৫ জনকে পুলিশ ধরিয়ে দেয় এই মানব চাকী। এরই পুরস্কার স্বরূপ মানব চাকীর মেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ।
হানিফকে মাসোহারা দিয়ে অবাধে চলতো গৌতম চাকীর পানি মিশ্রিত বাংলা মদের ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে নিয়মবহির্ভূত ভাবে যে গিয়েছে তার কাছেই বাংলা মদ বিক্রয় করেন গৌতম চাকী। যদিও শুধুমাত্র মাদক সেবনের অনুমতি পত্র যাদের রয়েছে তাঁরাই বাংলা মদ ক্রয় করতে পারবেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলেছেন, যাদের মাদক সেবনের অনুমতি রয়েছে সেই ব্যাক্তি প্রতিমাসে সাড়ে ৯ লিটার বাংলা মদ ক্রয় করতে পারবেন।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন কুষ্টিয়ার প্রভাবশালী এমপি ও আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে ৫ লক্ষ টাকা মাসোহারা দিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হয় বাংলা মদ বিক্রেতা গৌতম চাকীর ছেলে মানব চাকী। এছাড়াও মাসিক ভাবে তাকে ২ লক্ষ দেয়া হতো। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ পেয়েও হানিফের আস্থাভাজন হওয়ার পর আর তাকে পিছু তাকাতে হয়নি। সমাজ সেবা অফিস থেকে শুরু করে সব অফিস নিয়ন্ত্রণে নেন সে। পালিয়ে যাওয়ার আগে সমাজ সেবা অফিসে কিছু কাজ না করে আগেই চেক উত্তোলন করার সত্যতাও মেলে। অভিযোগ রয়েছে পদ পেতে ২০২২ সালের ২৬ মার্চ বাদ আসর হেফাজত ইসলামের একটি কর্মসূচি পালনের আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে বড়বাজার জামে মসজিদে জুতা পায়ে ঢুকে মুসুল্লিদের হকিস্টিক দিয়ে মারধর করে মানব চাকী। এবং ৫ জন মুসুল্লিকে জামায়াত শিবির জঙ্গি সংগঠন আখ্যা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। এবিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে তৎকালীন সময়ে দৈনিক সময়ের দিগন্ত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার নাব্বির আল নাফিজ এর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এইসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে এরই পুরস্কার স্বরূপ মানব চাকীর মেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ।
তবে কোন এক অদৃশ্য কারণে এখনো বহাল তবিয়তে চলছে গৌতম চাকীর বাংলা মদের দোকান।
এদিকে গৌতম চাকীর বাংলা মদের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড হোল্ডার ছাড়াও অনেকেই সেখানে গিয়ে মদ ক্রয় করছে নির্বিঘ্নে এবং সেই মদ সেবন করে মাতলামি করছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকজন যাদের মাসে সাড়ে ৯ লিটার মদ নেয়ার কথা তাঁরা দিনে ৩০ থেকে ৫০ লিটার মদ নিয়ে বাইরে বিক্রয় করছে। আর এই গৌতম চাকে ও মানব চাকী মিলে সিন্ডিকেট টিম তৈরি করেছে বিভিন্ন এলাকার কিছু হরিজনকে নিয়ে মদ বিক্রির সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। ৫ই আগস্টের পর গৌতম চাকীর মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে তার ভাই তুহিন চাকী।
তুহিন চাকীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনার কিছু জানার থাকলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে জান। আমি কিছু বলতে পারবোনা।এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে গিয়ে এবিষয়ে কথা বলতে চাইলে তারা তথ্য ফরম পূরণ করে দিতে বলেন।
এবিষয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তবে কি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অর্থের বিনিময়ে চোখে টিনের চশমা পড়ে রয়েছে?