Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের নেতৃত্বে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিষ্কার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে ‘ক্লিন কুষ্টিয়া, গ্রীন কুষ্টিয়া’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ও নিজের জেলাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের সবুজ আবাসভূমি হিসাবে গড়ে তুলতে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে তিনি প্রতিবেদককে জানান।

    এছাড়াও সংগঠনটির পরিবেশবান্ধব কাজকে স্বাগত জানিয়ে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন সাধারণ জনগণের কাছে।শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। হাসপাতালটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটি কাজ করে যাবেন বলে জানান। এছাড়াও নিয়মিত হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেবেন বলে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা প্রতিবেদককে জানান।

    জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কমলাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কার্যক্রম শুরু করে ভাদালিয়া, আলামপুর, বিত্তিপাড়া, ঝাউদিয়া, হরিণারায়নপুর, কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার ও মজমপুর এলাকা সমূহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন। বর্তমানে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা সদর হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথমদিনে তাঁরা হাসপাতালের বাইরে রাস্তা ও করিডোর সমূহ পরিষ্কার করেছে। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের ভেতরের সকল স্থানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করবেন বলে জানিয়েছেন।

    হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁর স্বজনরা প্রতিবেদককে জানান, এই হাসপাতালটি অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত ছিলো। ‘ক্লিন কুষ্টিয়া, গ্রীন কুষ্টিয়া’ এর স্বেচ্ছাসেবীরা নোংড়া পরিষ্কার করে দিচ্ছে। এতে হাসপাতালের সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ ফিরে আসছে। এমন কাজে সংগঠনটি শতভাগ প্রশংসার দাবিদার বলে জানান তাঁরা।

    কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ হোসেন ইমাম প্রতিবেদককে জানান, স্বাস্থ্য সেবার প্রধান শর্ত হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। জনবল সংকট ও রোগীর অত্যাধিক চাপের কারণে আমরা হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হিমসিম খাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লিন-কুষ্টিয়া, গ্রিন-কুষ্টিয়া’ আমাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা হাসপাতাল চত্ত্বর ও করিডোর সমূহ পরিষ্কার করেছে। পর্যায়ক্রমে তাঁরা সম্পূর্ণ হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করার আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পাশাপাশি সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

    এছাড়াও হাসপাতালের পক্ষ থেকে সংগঠনটিকে সাধুবাদ জানান এই কর্মকর্তা।

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল মঈদ বাবুল প্রতিবেদককে জানান, সবুজ শ্যামল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সবুজে ঘেরা একটি আধুনিক কুষ্টিয়া গড়ে তোলা তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার প্রতিবেদককে জানান, হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ছিলো। তাঁরা সেখানে কাজ শুরু করেছেন। প্রথমদিনে হাসপাতালের বাইরে পরিষ্কার করেছেন। পর্যায়ক্রমে ভেতরের সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন। হাসপাতালের কর্মীদের সাথে সংগঠনটির ২০ সদস্যের একটি কমিটি কাজ করবেন বলে জানান। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সংগঠনটি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, “ময়লা আবর্জনা প্রকৃতিতে এমনি এমনি আসে না। আমরা ফেলি বলেই আসে। আমরা যদি না ফেলি তাহলে আর আসবে না। পরিষ্কার করছি,আর ময়লা ফেলছি না। সচেতন হয়ে যাচ্ছি। এভাবে আমরা সচেতনার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। সবার সহযোগীতায় আমরা ক্লিন,গ্রিন সবুজময় প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”

    Spread the love