Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    কুষ্টিয়া, ১০ এপ্রিল ২০২৬:

    কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের কক্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে পরিবার সদস্য ও স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক ভাবে ধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

    এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশ্যপ্রহরীকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে যায়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে আসেনা। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের যান। এ সময় বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে মেয়েটির খোঁজ জানতে চাইলে তিনি বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে দাবি করেন এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পিয়নের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর বিষয়টি স্থানীয়রা বুঝতে পেরে সেখানে যান। এর পরেও পিয়ন চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয়দের সন্ধেহ হলে পিয়নের সঙ্গে হাতাহাতি করে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন তারা। সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

    পরে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গাইনী ওয়ার্ডের মেঝেতে শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে। তারা জানায় মেয়েটি কথা বলার মত অবস্থায় নেই। কিছু বলতে পারছেনা। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটিও তার পরিবারের বলেতে পারছেনা।

    ছাত্রীর মামা জানান, স্কুলের ২য় তালায় একটি রুমে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিল। বই ও সেন্ডেলও পড়ে ছিল তৃতীয় তলায়। ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মিরপুর থেকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

    কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, রাতে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে তার স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে ধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে। রোগী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।

    মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি হাসপাতালেই আছি। মেয়েটি ও তাঁর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। যেহেতু চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে কিছু পেয়েছেন। এ জন্য জোর তদন্ত করা হচ্ছে। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হলে দ্রুত মামলা নেওয়া হবে এবং দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

    Spread the love