
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
একসময় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল চৌড়হাস মুকুল সংঘ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যানিকেতন। মাঝে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের নেতৃত্বে একঝাঁক তরুণ শিক্ষক-শিক্ষিকার অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও সাফল্যের আলো ছড়াচ্ছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুষ্টিয়া জেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ অবস্থান অর্জন করেছে বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ ২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০২৩ সাল থেকে প্রতিবছরই ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বছর বিদ্যালয় থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৭৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশ। এছাড়া ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (এ প্লাস), ৩১ জন ‘এ’ এবং ১৪ জন ‘এ-মাইনাস’ অর্জন করেছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সেখানে চৌড়হাস মুকুল সংঘ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যানিকেতনের পাসের হার ৯৫ শতাংশ, যা উপজেলার গড় পাসের হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৬৪টি বিদ্যালয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি বিদ্যালয়, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এডুকেয়ার, মিশন স্কুল, হাসিব ড্রিম স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় চৌড়হাস মুকুল সংঘ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যানিকেতন পঞ্চম অবস্থান অর্জন করেছে। আর শুধু এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান দ্বিতীয়।বিদ্যালয়টির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এখানকার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অবহেলিত পরিবারের সন্তান এবং সরকারি শিশু পরিবারের শিক্ষার্থী। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন সাফল্য অর্জন করায় বিদ্যালয়জুড়ে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা সুলতানা বলেন, “স্যারেরা সবসময় আমাদের লেখাপড়ার বিষয়ে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন। তবে আমার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান আমার মায়ের। আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। আমার মা সবসময় আমার পাশে বসে থাকতেন এবং আমাকে পড়াশোনায় উৎসাহ দিতেন।”
প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করি। প্রতি মাসে মডেল টেস্ট নেওয়া হয় এবং সব পরীক্ষার ফলাফল অভিভাবকদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়। প্রতিবছর একাধিক অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবারের ফলাফল আমার শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ও অভিভাবক আমাকে নিয়মিত উৎসাহ দেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করেন। তাদের সহযোগিতায় আমি ও আমার শিক্ষকরা সাহস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। একসময়ের অবহেলিত এই প্রতিষ্ঠানকে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি শিশু পরিবারের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটি আগামীতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।