
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের আহম্মদ (১৪)। তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র এবং দৌলতপুর উপজেলার মহসীন আলীর ছেলে।
বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে তাকে মৃত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। জুবায়ের প্রতিষ্ঠানটির নবান্ন আবাসিক ভবনের ২০২ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীর ঠান্ডা ও হাত-পা নীলচে ছিল। তবে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেন, জুবায়ের কথা বলতে বলতেই হাসপাতালে এসেছে। এ বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ মর্গে পাঠায় এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, জুবায়েরের মৃত্যুকে স্বাভাবিক নয় বলে অভিযোগ তুলেছে একই আবাসিকের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। চিকিৎসার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও দায়িত্বরত শিক্ষক তা গুরুত্ব দেননি। অনেক দেরিতে হাসপাতালে নেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তাদের আবাসিক ভবনে আটকে রাখা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, “জুবায়ের আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিল। রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
মৃত শিক্ষার্থীর বাবা মহসীন আলী জানান, তার ছেলে অ্যাজমা রোগে ভুগলেও বর্তমানে সুস্থ ছিল এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে চলছিল। এ ঘটনায় তার কোনো অভিযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সচেতন মহলের মতে, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এমন মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পাশাপাশি আবাসিকে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।