
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুষ্টিয়ার শ্রমিকদল নেতা আবেদুর রহমান আন্নু (৫৩) নিখোঁজের আট দিন পর তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ফরিদপুর সদর থানাধীন পদ্মা নদীর তীরবর্তী ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের কবিরপুর চরের কাছ থেকে নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
গত ১৬ নভেম্বর বেলা ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার হরিপুর-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ হন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রহমান আন্নু। হরিপুর মোহনায় মাছ কেনার উদ্দেশ্যে সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। ট্রলার দুর্ঘটনার পর কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও খুলনা ডুবুরি দল বহু চেষ্টা চালালেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের পরদিন ১৭ নভেম্বর আন্নুর স্ত্রী জিয়াসমিন আরা রুমা কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-১১৪০) করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সকাল ১১টার দিকে হরিপুর মোহনা ও চর ভবানীপুরের মধ্যবর্তী স্থানে বাল্কহেডের ধাক্কায় তার স্বামী পানিতে পড়ে যান।
দীর্ঘ আট দিন পর অক্ষত অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানান প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মতামত না পাওয়া পর্যন্ত লাশের অবস্থান ও অক্ষত থাকার কারণ স্পষ্ট নয়।
নৌ পুলিশ জানায়, অজ্ঞাতনামা এক মুসলিম পুরুষের (বয়স আনুমানিক ৫০) লাশ তারা উদ্ধার করে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। সিআইডি টিমকে অবহিত করা হয়েছে, তারা পরদিন সকালে এসে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে।
লাশের পকেটে একটি টাচফোন পাওয়া গেছে, যা পানিতে ভিজে থাকায় অকার্যকর হয়ে গেছে। ফোন বা সিম সচল করার চেষ্টা চলছে। মৃতদেহের কোথাও বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই, তবে বাম বগলের নিচে ক্ষতের মতো একটি চিহ্ন দেখা গেছে।
বর্তমানে মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আবেদুর রহমান আন্নু কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।