
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানকে কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে হত্যাচেষ্টা মামলার আরও এক আসামি শাহাবুল হোসেন ওরফে সাদ্দাম হোসেন (৩৪)কে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ৩২ নম্বর আসামি।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাসপাতাল মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর সায়মুম হাসান।গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাটদহচর এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানান, “আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি সাদ্দামকে কুষ্টিয়া হাসপাতাল মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” এর আগে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর মাহমুদুর রহমান বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০–৩০ জনকে আসামি করা হয়।
একাধিক সূত্র জানায়, সাদ্দাম হোসেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদের মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। এ সূত্রে তিনি জেলা ছাত্রলীগে পদ পান। এছাড়াও তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেছে বিভিন্ন সূত্র।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার একটি আদালত থেকে মানহানির মামলায় জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় ড. মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়। আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগের সময় লাঠি ও ইটপাটকেলের আঘাতে তিনি আহত হন। তার গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা নেওয়া হয়।
শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিককে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার একটি মামলা করলে সেই মামলায় জামিন নিতে তিনি কুষ্টিয়া আদালতে যান।
সেদিন দায়ের করা মানহানির মামলায় আদালত ড. মাহমুদুর রহমানকে স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। তবে দুপুর ১টার পর থেকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং বিক্ষোভ মিছিল বের করে। একপর্যায়ে তারা তার ওপর হামলা চালায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপে রক্তাক্ত হন তিনি।