
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়ায় দীর্ঘদিন পর জমে উঠেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা দাঁড়িয়াবান্ধা (গাদন)। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নে সামাজিক সংগঠন রাশিদা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা দেখতে ঝাউদিয়া বল ফিল্ডে ভিড় করেন হাজারো দর্শক। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসন-৩০৬-এর সংসদ সদস্য মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত আসন-৩০৬-এর সংসদ সদস্য মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “দাঁড়িয়াবান্ধা শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি স্মৃতি। আধুনিকতার কারণে হারিয়ে যেতে বসা এই খেলাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখে এবং সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাশিদা ফাউন্ডেশনের এ আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে আসবে—এটাই প্রত্যাশা।”
রাশিদা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাশিদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা উত্তম কুমার বিশ্বাস ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাংবাদিক শাহারিয়া ইমন রুবেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন, জেলা বিএনপির সদস্য আবু তালেব ও জয়নাল আবেদীন প্রধান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ, ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম টিপু।
রাশিদা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এ দাঁড়িয়াবান্ধা প্রতিযোগিতায় মোট আটটি দল অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী দিনের খেলায় জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে ঝাউদিয়া বল ফিল্ড। হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী খেলাকে ঘিরে ঝাউদিয়া এলাকার তরুণদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের জন্য পুরস্কার হিসেবে দুটি বড় খাসি ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কার ঘোষণা ঘিরেও দর্শকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উৎসাহ ও উত্তেজনা। খেলার মাঠের পাশাপাশি আশপাশের বাসাবাড়ির ছাদেও নারী দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। দাঁড়িয়াবান্ধার মতো দেশীয় খেলাগুলোর আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শেকড় ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম।
রাশিদা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাংবাদিক শাহারিয়া ইমন রুবেল বলেন, “দাঁড়িয়াবান্ধা আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই খেলাটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং সবাইকে দেশীয় খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। আমরা চাই, দাঁড়িয়াবান্ধার মতো হারিয়ে যেতে বসা খেলাগুলো আবারও মাঠে ফিরুক। একই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া অন্যান্য খেলাধুলাকেও ফিরিয়ে আনতে চাই। তরুণ সমাজ খেলাধুলায় যুক্ত হোক এবং মাদককে না বলুক।”
দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিতভাবে এ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হলে তরুণ সমাজ মাদক ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাবে।