
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে ধর্ষণ মামলায় আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম (২৭) নামে এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, অসুস্থতা অনুভব করলে প্রথমে আরিফুল ইসলামকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আতিফুল ইসলাম একটি ধর্ষণ মামলায় আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেল সুপার বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ আরিফুল ইসলাম নামে একজনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে হাসপাতাল প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন রোগীর স্বজনের দাবি, কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে মৃত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করার চেষ্টা করেছিল। তবে এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।