
আশরাফুল আলমঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শিক্ষককে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই ছাত্রীর সন্ধান মেলেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইশিতা আক্তার ইভা (১৪)-কে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিতেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইভা তার বান্ধবী ছাদিয়ার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ছাদিয়ার বাড়িতে খোঁজ নেন। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, ইভা ওই বাড়িতে যায়নি। পরে আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, মান্দিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের বাড়ির সামনের পাকা সড়ক থেকে শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় ইভাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলে তুলে ঝিনাইদহ শহরের দিকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনের বিরুদ্ধে হরিণাকুণ্ডু থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নজরুল ইসলামের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি বুরহান উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, “এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”
এদিকে, এক মাস ধরে মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। তারা দ্রুত ইভার সন্ধান এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের এক মাস পার হলেও মেয়েকে উদ্ধার করা যায়নি। এছাড়া তারা দাবি করেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।