
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৪ ও ৮ জন জনবল সরবরাহ সংক্রান্ত একটি দরপত্রকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে সোমবার (১ জুন) কুষ্টিয়ায় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৪ ও ৮ জনের আউটসোর্সিং টেন্ডার বাতিল এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীরের অপসারণ দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে দরপত্রের শর্ত ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও যোগ্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের ‘সাফী ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ প্রদান করা হয়েছে। এতে কুষ্টিয়ার অভিজ্ঞ ও বৈধ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
এছাড়া হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীরের বিরুদ্ধে নিজ এলাকার লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ ও নাটোর অঞ্চল থেকে লোকজন এনে হাসপাতালে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, “পরিচালক তার পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন। দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে।”
তিনি আরও দাবি করেন, আনুষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বাইরের জেলা থেকে কিছু ব্যক্তিকে হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই টেন্ডার বাণিজ্য ও নিয়োগে অনিয়মের নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীর বলেন, “ই-জিপি পদ্ধতিতেই টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। ই-জিপি পোর্টালে দেখা যাবে কারা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছে। এ জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি ছিল। কমিটি সকল কাগজপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই করেই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
মূল্যায়ন কমিটির নথি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব তথ্য ই-জিপি সিস্টেমে সংরক্ষিত ও আপলোড করা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ করা হয়েছে।”
নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “শুধু কুষ্টিয়া নয়, বিভিন্ন জেলা থেকে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কিছু জনবল নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ জন প্রতিদিন ৭০০ টাকা করে হাজিরা পান। একশর বেশি কর্মী বর্তমানে কর্মরত আছেন। এখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই।”
এদিকে মানববন্ধনকারীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।