
নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যাচ্ছিলেন নারী-শিশুসহ এক পরিবারের পাঁচ সদস্য। তাঁদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন স্থানীয় তরুণ মো. সৌরভ মিয়া। শিশুসহ দুজনকে উদ্ধার করে পাড়ে তোলার পর তৃতীয় একজনকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই নিখোঁজ হন তিনি। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর সৌরভসহ দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন।
শুক্রবার বিকেলে শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডুবুরি দল সৌরভ মিয়া ও ওবায়দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে। বেলা একটার দিকে নিখোঁজ অন্য দুজনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল।
নিহত সৌরভ মিয়া লাখপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্য নিহত ওবায়দুল্লাহ (৩৮) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা এবং সৌদিপ্রবাসী। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন। নিখোঁজ দুজন হলেন শান্তা আক্তার (২৫) ও মো. শান্ত মিয়া (২৪)।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ শ্বশুরবাড়িতে আসেন ওবায়দুল্লাহ। বেলা দুইটার দিকে পরিবারের ছয় সদস্য শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে যান। একপর্যায়ে শান্তা আক্তার নদীতে তলিয়ে যেতে থাকেন। তাঁকে ধরে রাখতে গিয়ে তাঁর বোন শাহীনুর আক্তারও শিশুসন্তানসহ স্রোতে হাবুডুবু খেতে থাকেন।
তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যান ওবায়দুল্লাহ ও শান্ত। কিন্তু একে একে তাঁরাও স্রোতে ভেসে যেতে থাকেন। এ সময় বিষয়টি দেখতে পেয়ে সৌরভ তাঁদের উদ্ধারে নদীতে ঝাঁপ দেন। তিনি শিশুসন্তানসহ শাহীনুরকে উদ্ধার করে পাড়ে তুলতে সক্ষম হন। এরপর আরেকজনকে উদ্ধার করতে নদীতে নামলে প্রবল স্রোতে তিনিও তলিয়ে যান।
স্থানীয় লোকজন পরে নদীতে নেমে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দলকে সঙ্গে নিয়ে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। সকাল ১০টার দিকে সৌরভ ও ওবায়দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।
শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় শুক্রবার উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছিল। শনিবার সকালে ডুবুরি দল নিয়ে আবার অভিযান শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত দুজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ অন্য দুজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার পাওয়া শাহীনুর আক্তার জানান, শান্তা তলিয়ে যাচ্ছিলেন দেখে তিনি তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। পরে তিনিও স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকেন। তাঁদের উদ্ধারে স্বামী ও ভাগনে এগিয়ে গেলে তাঁরাও পানিতে ডুবে যান। সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে শিশুসহ তাঁকে পাড়ে তুলে দেন। এরপর অন্যদের বাঁচাতে আবার নদীতে নামেন সৌরভ। তখন তিনিও স্রোতে তলিয়ে যান।
শিবপুর থানার উপপরিদর্শক নাদিম হাসান বলেন, নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। উদ্ধার হওয়া দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।