
কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মোদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিসচা কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু। স্বাগত বক্তব্য দেন নিসচা কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল। বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমারখালী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন ও বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রকোনুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পারাপার এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সড়কে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিজের জীবন রক্ষার পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে শাহারিয়া ইমন রুবেল বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রত্যেককে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে এবং সড়কে চলাচলের সময় অসতর্কতা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করতে হবে।

বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক সংকেত ও সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। রাস্তা পারাপারের সময় সতর্ক থাকা, চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে পার না হওয়া এবং যানবাহনে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিজেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সহপাঠীদেরও নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মোদক বলেন, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত করার পাশাপাশি নিরাপদ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, বরং একটি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দেয়। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী চারজন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সদস্য ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।