
কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটিতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনকে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সমিতির নামে দলিলপ্রতি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর এলাকায় দলিল লেখক আমিরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাবেক কাউন্সিলর সোহেল রানা আশা উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কমিটিতে আতিকুজ্জামান রাজুকে সভাপতি, মশিউর রহমান শিমুলকে সহসভাপতি, সোহেল রানা আশাকে সাধারণ সম্পাদক এবং আমিরুল ইসলামকে কোষাধ্যক্ষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ওয়াহিদুজ্জামান লাইজুকে সরাসরি কমিটিতে না রেখে তাঁর ভাই আতিকুজ্জামান রাজুকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আড়ালে থেকে ওয়াহিদুজ্জামান লাইজু কমিটির মূল দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
সূত্রগুলোর দাবি, বৈঠকে দলিল লেখক শিমুল, আশা, আমিরুল, মানিক, মমিন ও রাজুসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
দলিলপ্রতি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরিকল্পনার অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখকের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় দলিলের মূল্য অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম লাখে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, দ্বিতীয় লাখে ২ হাজার টাকা এবং পরবর্তী লাখগুলোতে ১ হাজার টাকা করে আদায়ের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এ হিসাবে ২০ লাখ টাকা মূল্যের দলিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এ ছাড়া, ৫ লাখ টাকা মূল্যের দলিলের ক্ষেত্রে ৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং হেবা ঘোষণাপত্রের দলিলের ক্ষেত্রে ৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অর্থ আদায়ের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্টদের সম্মতি বা অনুমোদন রয়েছে কি না এবং বাস্তবে কারও কাছ থেকে এ ধরনের অর্থ আদায় করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যা বলছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক
এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা আশার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা সমিতির কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করেছিলাম। লোকাল এমপি এটা করতে দেননি। সবাইকে নিয়ে এই সমিতি চালাতে চেয়েছিলাম। সমিতি না থাকায় কারেন্ট বিল ঘরে ঘরে গিয়ে আনতে হচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে না। সব জায়গায় সমিতি আছে, শুধু কুষ্টিয়া সদরে হচ্ছে না। গত শুক্রবার আমরা রেজিস্ট্রি অফিসে বসেছিলাম।”
অন্যদিকে, ওয়াহিদুজ্জামান লাইজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
জেলা রেজিস্ট্রারের বক্তব্য
কুষ্টিয়া জেলা রেজিস্ট্রার গাজী মুহাম্মদ আব্দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি কোনোভাবেই সমিতি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে দেব না। গত রাতে এমপি মহোদয় ফোন দিয়েছিলেন, তিনিও সমিতি করতে নিষেধ করেছেন।”
প্রথম পর্ব