
আশরাফুল আলম:
কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মামুন অর রশিদের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া–খুলনা মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়। ভিডিওটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানাধীন লক্ষীপুর এলাকায় ধারণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শোনা যায়। পাশাপাশি ভিডিওর ক্যাপশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শিক্ষার অধিকার পুনর্বহাল এবং সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন কীভাবে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করল এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ কেন দেখা যায়নি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের এ ধরনের কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। এর আগেও তারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পোস্টারিং করেছে। কিন্তু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা বলেন, “ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল কোথায়, তা যাচাই করা হচ্ছে। যদি ঘটনাস্থল ইবি থানা এলাকার মধ্যে পড়ে, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা, আটক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়নি।