Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৪ ও ৮ জনের আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগসংক্রান্ত টেন্ডার বাতিল এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীরের অপসারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।

    মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ১১টায় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ‘কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ১০৪ ও ৮ জনের আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও টেন্ডার বাণিজ্য হয়েছে। তারা অবিলম্বে টেন্ডার বাতিল এবং পরিচালক ডা. আনোয়ারুল কবীরের অপসারণের দাবি জানান।

    বক্তারা বলেন, ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও যোগ্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায় এবং স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন।

    আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের পরিবর্তে বাইরের জেলার লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। এসব কারণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তারা পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।

    মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবিগুলো শোনে। বৈঠক শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    আন্দোলনকারীরা জানান, একই দাবিতে গত ১ জুনও তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছিলেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

    তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীর। তিনি বলেন, “ই-জিপি পদ্ধতিতেই টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। একটি মূল্যায়ন কমিটি সকল কাগজপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে।”

    নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিভিন্ন জেলা থেকে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কিছু জনবল নেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই।”

    এদিকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, টেন্ডার প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

    Spread the love