Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

নূরজাহান বেগমের ফাইল ছবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় নূরজাহান বেগম (৬০/৬৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি নিজের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করার পর থেকেই তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নূরজাহান বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইবি থানার মামলা নম্বর-১৭, তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং জিআর মামলা নম্বর-১৬৫-এর ভিত্তিতে নূরজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১৩ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নূরজাহান নলকোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং তার স্বামীর নাম মো. সেলিম আহমেদ। পুলিশের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং মামলায় বর্ণিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে—এমন যুক্তিতে তাকে জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়।

অন্যদিকে নূরজাহানের পরিবারের দাবি, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কৃষকদলের ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নূরজাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তার মায়ের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।তিনি বলেন, রোববার সকালে তার মা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ইবি থানা ও পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের একটি যৌথ দল বাড়িতে গিয়ে জানায়, ওসি তার সঙ্গে কথা বলবেন। পরে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হতে পারেননি।

সেলিনা আক্তার বলেন, ‘মামলা করার পর থেকেই মাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সকালে পুলিশ এসে বলে, গুদাম পোড়ানোর মামলার বাদী হওয়ায় ওসি সাহেব তার সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর মাকে নিয়ে যায়।’তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে আমার ১৫ বছর বয়সী অটিজম আক্রান্ত মেয়ে রয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িতে মা, আমি ও আমার মেয়ে ছিলাম।’

নূরজাহানের ছেলে রুহুল আমিন বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি ও গুদামে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমি বর্তমানে পলাতক। আমার বৃদ্ধ মাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। পরে জানতে পারি তাকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি ওই সময় একটি হত্যা মামলার তদন্তে বাইরে ছিলেন। নূরজাহানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে থানায় গিয়ে খোঁজ নিতে হবে।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।

এদিকে নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলার তদন্ত এবং তাকে গ্রেপ্তারের কারণ নিয়ে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।