Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

“পরিবেশকে বাঁচাই, আগামী প্রজন্মকে বাঁচাই, পৃথিবীকে বাঁচাই”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু, মাটি, পানি, কৃষি ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পলিন ফাউন্ডেশন (রেজিঃ নং- কুষ্টিয়া ৯৫১/২০১১)।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কুষ্টিয়ার চৌড়হাস মুকুল সংঘ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যানিকেতনে স্কুল ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলিন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মনি সাকলায়েন এলিন।

এ সময় তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখতে ছাদ ও বাড়ির আঙিনায় সবজি বাগান, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু, মাটি, পানি, কৃষি ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় কৃষি, মাটি ও পানি দূষিত হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে জলবায়ুর ওপর। একই সঙ্গে মাটি ও পানি দূষণের কারণে কৃষি উৎপাদন ও পুষ্টির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে শিশুদের ধারণা দেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মাটি ও পানি দূষণ মোকাবিলায় করণীয় এবং কৃষি ও পুষ্টি বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পছন্দের সবজির তালিকা এবং বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা আঙিনায় পুষ্টি বাগান করার আগ্রহের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে তাদের মধ্যে বীজ ও জৈব সার বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি ছাদ বা আঙিনায় পুষ্টি বাগান তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে জানান পলিন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের শুধু বইয়ের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও পরিচ্ছন্নতার চর্চায় যুক্ত করতে হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা আঙিনার ছোট জায়গাকে কাজে লাগিয়ে সবজি ও পুষ্টিকর ফসল উৎপাদনের ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে পারিবারিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শিশুদের সম্পৃক্ততা তাদের কৃষি ও প্রকৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পলিন ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভার সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করছে।

চৌড়হাস মুকুল সংঘ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, “তোমরা এ উদ্যোগের মাধ্যমে হাতে-কলমে কৃষি ও চাষাবাদ সম্পর্কে জানতে পারবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলবে না এবং অন্যদেরও সচেতন করবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক সুন্দর একটি প্রজন্ম।”

তিনি পলিন ফাউন্ডেশনকে এমন মহৎ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।অনুষ্ঠানে পলিন ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী টিমের সদস্য ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পলিন ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়া পৌরসভার সঙ্গে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কুটিরশিল্প তৈরিতেও সহযোগিতা করছে।