
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া শহরের তুলাপট্টি এলাকার অসহায় ও অসুস্থ সন্ধ্যা দে’র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক কাজল মাজমাদার। শনিবার সকালে তিনি সন্ধ্যা দে’র (৬০) বাসায় গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা দে তার একমাত্র মেয়ে সোমা দে’কে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। মায়ের সেবাযত্নের জন্য সোমা দে বিয়ে পর্যন্ত করেননি। দীর্ঘদিন চাকরি করার পর বর্তমানে তিনি অবসরে যাওয়ায় পরিবারটির কোনো নিয়মিত আয়ের উৎস নেই।
খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা, মেয়ের চাকরির উদ্যোগের আশ্বাস।
সম্প্রতি দুর্ঘটনায় সন্ধ্যা দে’র হাত ভেঙে যায়। একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও চিকিৎসকদের মতে আরও একটি বড় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এছাড়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় প্রতি মাসে ব্যয়বহুল ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা ও সংসার পরিচালনা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবারটির দুর্দশার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে কাজল মাজমাদার নিজেই তাদের বাড়িতে ছুটে যান। তিনি এক মাসের খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং সোমা দে’র জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় কাজল মাজমাদার বলেন, “আমি সবসময়ই অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। ফেসবুকে তাদের কষ্টের কথা জানতে পেরে নিজেই ছুটে এসেছি। আপাতত এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। পাশাপাশি অসুস্থ এই বৃদ্ধার মেয়ের একটি চাকরির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজেদের অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে। মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সবাইকে এমন অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
সন্ধ্যা দে ও সোমা দে তাদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাজল মাজমাদারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকবৃন্দ এবং ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।