
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি, হারুন অর রশীদঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে দাঁতের চিকিৎসা করার পর ভুল দাঁত তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মো. দবির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দাঁতে সংক্রমণ ও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় এক যুবককে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা মো. আমজাদ।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মো. আমজাদ দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, দৌলতপুর থানা বাজার এলাকায় দোকান দিয়ে মো. দবির নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের চিকিৎসা করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট সকালে ২০ বছর বয়সী ছেলে মো. আশিকের দাঁতে সমস্যা দেখা দিলে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে নিয়ে দৌলতপুর থানা বাজারে দবিরের দোকানে যান আমজাদ। সেখানে দবির নিজেকে দাঁতের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আশিকের দাঁতের চিকিৎসা করেন।ভুক্তভোগীর বাবার দাবি, চিকিৎসার সময় দবির একটি দাঁত তুলে ফেলার পরামর্শ দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে দাঁত তোলার সম্মতি দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সমস্যাযুক্ত দাঁতের পরিবর্তে একটি সুস্থ দাঁত তুলে ফেলেন দবির।
এরপর আশিকের দাঁতের মাড়িতে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
পরিবারের সদস্যরা আশিককে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরে আশিককে রাজশাহীর রয়্যাল হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার দাঁতের অপারেশন করা হয় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।
অভিযোগকারী আমজাদের দাবি, কথিত ভুল চিকিৎসার কারণে ছেলের চিকিৎসায় তাদের প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এতে ছেলের শারীরিক ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবারটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
আমজাদ বলেন, “ছেলের দাঁতের সমস্যা সমাধানের জন্য চিকিৎসকের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভুল দাঁত তুলে ফেলার পর ছেলেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।”
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত দবিরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো তদন্তাধীন। অভিযুক্ত মো. দবিরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।