Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী খন্দকার টিপু সুলতানের প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, আদর্শ ও রাজনৈতিক অবদান নিয়ে কোনো আলোচনা না করে কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়েছে।

    ভিডিওতে অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলার পাশাপাশি অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত, ভোট বিক্রির রাজনীতি এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার মতো অভিযোগও উত্থাপন করতে শোনা যায়।

    এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মালিহাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূর-এ-আল আমীন বুলবুল বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান আত্মদম্ভ ও নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর হৃদয়ে আঘাত করেছেন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

    এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী খন্দকার টিপু সুলতানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “উনি যা করেছেন, সেগুলোই আমি তুলে ধরেছি। উনি জীবনে কোনো দিন ধানের শীষে ভোট দেননি। তবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনবার এমপি হয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুইবার ধানের শীষ নিয়ে এমপি হয়েছেন। একবার যখন কেউ ভোট করেনি, তখন আমরাই তাকে এমপি বানিয়েছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১৯৮৮ সাল থেকে ওনার সঙ্গে আছি। কাজেই ওনার সম্পর্কে আমার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। যারা ওনাকে জানে, তারা সবাই ওনার বিরুদ্ধে কথা বলেছে। আব্দুর রশিদও ওনার বিরুদ্ধে বলেছেন, এনামুল হক বাবুও বলেছেন, আমিও বলেছি। বলার কারণ হলো, যখন আপনার সঙ্গে ওনার ঝগড়া হবে, তখন তিনি আপনার বিরুদ্ধে অন্য কাউকে লাগিয়ে দেবেন।’

    খন্দকার টিপু সুলতান আরও বলেন, ‘ওনার বয়স আশি বছর। পাঁচ বছর পর কে বাঁচবে, কে মরবে, কেউ জানে না। উনি আবারও নোংরা খেলায় মেতেছেন। আমাদের নিয়ে বহু নোংরামি করেছেন। সহ্য করতে পারিনি বলেই সত্য কথাগুলো বলে ফেলেছি।’

    দেড় কোটি টাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেড় কোটি টাকার কথা আমি বলেছি। যে সিএনজিতে সেই টাকা গিয়েছিল, সেই সিএনজি চালকই বাজারে এ বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।’

    আইএফআইসি ব্যাংক থেকে আড়াই কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আইএফআইসি ব্যাংক থেকে যে আড়াই কোটি টাকার কথা বলেছি, সেই টাকার বিনিময়ে কামরুল আরেফিনকে সংসদে পাঠানো হয়েছে। আমার মতে, এসব লোক কখনোই সংসদে যাওয়ার মতো নয়।’

    এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি আমাদের মর্মাহত করেছে। দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি।”

    অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কোনো আলোচনা হয়নি। সেখানে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটানোর একটি সভা করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্যই এসব অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এর কোনো ভিত্তি নেই।

    উল্লেখ্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও কুষ্টিয়া-২ আসনের ধানের শীষের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    Spread the love