Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হাতের অপারেশন করতে গিয়ে তাসমিয়া (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

    সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার শানপুকুড়িয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী তরিকুল ইসলামের মেয়ে তাসমিয়াকে হাতের অপারেশনের জন্য শহরের একতা হাসপাতাল ও ডায়াবেটিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাসায় খেলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে তার বাম হাত ভেঙে যায়।

    শিশুটির চাচি ও মা সীমা খাতুন জানান, ২০ হাজার টাকায় অপারেশনের চুক্তি হয়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, চেতনানাশক দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

    স্বজনদের দাবি, সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হাসতে হাসতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল তাসমিয়া। একটি সাধারণ অপারেশন করতে গিয়ে কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তা তারা মেনে নিতে পারছেন না। অনেকের অভিযোগ, নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ চেতনানাশক ও ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

    ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা হাসপাতাল ঘেরাও করে এবং ভাঙচুর চালায়। এ সময় দায়িত্বরত দুই চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি পুলিশের টিম নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তখন রোগীর স্বজনরা একতা হাসপাতাল ও ডায়াবেটিস সেন্টার বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এর আগে সুযোগ বুঝে হাসপাতালের পরিচালক সাইদুল পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতের দিকে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং শিশুটির মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে শিশুটির পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

    Spread the love