Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও ৫ থেকে ৬ শতাংশ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। একই সঙ্গে আট দফা দাবিতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তাঁরা।

রবিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, গত জুলাই মাসে কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মোট ৯টি গ্রুপে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে আটটি গ্রুপে ‘টুইন পিট টয়লেট’ নির্মাণ এবং একটি গ্রুপে নলকূপ স্থাপনের কাজ ছিল।

তাঁদের দাবি, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) উপেক্ষা করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্র মূল্যের ৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। যাঁরা এই অনৈতিক চাহিদা পূরণ করেছেন, তাঁদেরই নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) দেওয়া হয়েছে। এতে নিয়মিত ও যোগ্য ঠিকাদাররা কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ঠিকাদার মাহবুব হাসান বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে এই অফিসে একতরফা কর্তৃত্ব ও অনিয়ম চলে আসছে। এখনও বিশেষ একটি বলয়ের লোকজন অফিসে প্রভাব বিস্তার করে আছে। টেন্ডারগুলোতে দেখা গেছে, একই ব্যক্তি দুই থেকে তিনটি করে কাজ পেয়েছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে এসব কাজ করাচ্ছেন। আমরা এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

আরেক ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম তুহিন অভিযোগ করে বলেন, “এই অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কাজের শিডিউল নিয়ে কথা বলা যায় না। সাধারণ একটি ফাইলে সই করাতেও টাকা দিতে হয়। নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি দেখা করতে বা কথা বলতে রাজি হন না। অথচ নির্দিষ্ট কিছু লোকজনকে নিয়ে তিনি সারাদিন নিজ কক্ষে বসে থাকেন। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।”

ঠিকাদার আসাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৩০ কোটি টাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পে চরম অনিয়ম করা হয়েছে। আমরা নিয়মিত লাইসেন্সধারী ঠিকাদার হয়েও কোনো কাজ পাইনি। অন্যদিকে, আঁতাত ও গোপন পার্সেন্টেজ নির্ধারণ করে পছন্দের ঠিকাদারদের আগেই রেট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে একই ব্যক্তিকে একাধিক গ্রুপের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।”

মানববন্ধন শেষে ঠিকাদারদের একটি প্রতিনিধি দল কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বরাবর আট দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে গত জুলাই মাসে আহ্বান করা ৯টি গ্রুপের প্রায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্র প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, ৫ থেকে ৬ শতাংশ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ যাচাই, অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পূর্ববর্তী কর্মস্থল সাতক্ষীরার অডিট আপত্তি ও অনিয়মের নথি পর্যালোচনা এবং তাঁর নিয়মিত অফিসে উপস্থিতির ডিজিটাল হাজিরা পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না এবং বেলা ৩টার আগেই অফিস ত্যাগ করেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে তাঁরা দাবি করেন।

এদিকে, টেন্ডারে অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও অপসারণের দাবির বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।