
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক সময়ের শান্ত ও কর্মচঞ্চল জনপদ হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া উপজেলার বটতৈল ইউনিয়ন এখন মাদকের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ও গোপনে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করছে। মাদক কেনাবেচা, নিয়ন্ত্রণ ও সেবনকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযান মাঝে মাঝে পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক কারবারিরা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার কিশোর ও তরুণ সমাজ। স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সহজেই মাদকের নাগাল পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউনিয়নের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলে। কেউ প্রতিবাদ করলে মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। ফলে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাজানগর, কবুরহাট, স্বর্গপুর, বটতৈল মোড়, সর্দারপাড়া, বল্লভপুর রেলব্রিজ ও জিকে খাল সংলগ্ন এলাকাগুলো এখন মাদক কারবারিদের নিরাপদ রুট ও আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রেললাইন ও খালের আশপাশে নিয়মিত মাদক লেনদেন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একসময় যারা মাদক সেবন করতেন, তাদের অনেকেই এখন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ আবার বড় ধরনের ডিলারে পরিণত হয়েছেন। প্রশাসনের অভিযানে মাঝে মধ্যে কয়েকজন আটক হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রির মাধ্যমে তারা যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকাসক্তির কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দ্বিতীয় পর্বে থাকছে: কোন কোন রুট ব্যবহার করে বটতৈল ইউনিয়নে মাদক প্রবেশ করছে এবং কীভাবে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার হচ্ছে— সেই অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন।