Pathikrit Most Popular Online NewsPaper

    কুষ্টিয়া, ৯ জুন ২০২৬:

    কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৪ ও ৮ জনের আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগসংক্রান্ত টেন্ডার বাতিল এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীরের অপসারণের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের সিটি কলেজ এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। পরে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি তুলে ধরেন এবং টেন্ডার বাতিলের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।

    প্রতিনিধি দলের সদস্য রিপন জানান, “আমরা টেন্ডার বাতিলের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”‘

    কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ১০৪ ও ৮ জনের আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও টেন্ডার বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে। তারা অবিলম্বে টেন্ডার বাতিল এবং হাসপাতালের পরিচালকের অপসারণ দাবি করেন।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও যোগ্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায় এবং স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন।

    এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের পরিবর্তে বাইরের জেলার লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করে তারা বলেন, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, টেন্ডার প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পরিচালকের কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    পরে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকে তাদের দাবিগুলো শোনা হয়। আলোচনা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

    আন্দোলনকারীরা জানান, একই দাবিতে গত তিন দিন ধরেও তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

    তবে আন্দোলনকারীদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীর। তিনি বলেন, “ই-জিপি পদ্ধতিতেই টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। একটি মূল্যায়ন কমিটি সকল কাগজপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

    এদিকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, টেন্ডার প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

    Spread the love