
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৪ ও ৮ জনের আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগসংক্রান্ত বিতর্কিত টেন্ডার বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
এর আগে, বিতর্কিত টেন্ডার বাতিল ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীরের অপসারণের দাবিতে ‘কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে কয়েক দিন ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
গত ৯ জুন চতুর্থ দিনের মতো কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের সিটি কলেজ এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। পরে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে টেন্ডার বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়।
প্রতিনিধি দলের সদস্য রিপন সে সময় বলেন, “দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহসংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও টেন্ডার বাণিজ্য হয়েছে। তারা অবিলম্বে টেন্ডার বাতিল এবং হাসপাতালের পরিচালকের অপসারণ দাবি করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও যোগ্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায় এবং স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়েন।
এ ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের পরিবর্তে বাইরের জেলার লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, টেন্ডার প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পরিচালকের কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
তৎকালীন সময়ে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ারুল কবীর। তিনি বলেন, “ই-জিপি পদ্ধতিতেই টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। একটি মূল্যায়ন কমিটি সকল কাগজপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টেন্ডার বাতিলের নির্দেশনার পর হাসপাতালের আউটসোর্সিং নিয়োগ প্রক্রিয়া, টেন্ডারের পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাখছেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আনোয়ারুল কবীরের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।