
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া হাই স্কুল-এর খেলার মাঠ গত এক মাস ধরে একটি চক্র বাঁশ-খুঁটি ও অস্থায়ী ছাপড়া নির্মাণ করে দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবানা ইয়াসমিন জানান, মাঠে মেলা আয়োজনের জন্য কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর পরিচালক মুরাদ চৌধুরী অর্থ জমা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আসেন। তবে সভাপতি (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট)-এর অনুমতি ছাড়া তিনি অর্থ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এরপরও সংশ্লিষ্টরা মাঠে নির্মাণকাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সভাপতির নির্দেশে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া সত্ত্বেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—চক্রটি কতটা প্রভাবশালী?শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে বাঁশের ছাপড়া নির্মাণ করা হয়েছে এবং ভেতরে ইট স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুরাদ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে জারি করা স্মারক নম্বর: ৩৭.০০.০০০০.০৭১.২২.১৪৬.২৪-৯২ (তারিখ: ২৪ মার্চ ২০২৬) অনুযায়ী দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ সংরক্ষণ, ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ছুটির দিনে উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আশপাশের শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত করা যাবে না।
তবে বাস্তবে কুষ্টিয়া-এর এই বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নির্দেশনাটি কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ দখলমুক্ত না হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, “খেলার মাঠ শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দখল হয়ে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা-র অফিসার ইনচার্জ মোঃ কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “জিডির বিষয়টি আমার মনে নেই।”
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।